শ্রমিক না পেয়ে ক্ষেতেই পড়ে থাকছে বোরো ধান

দিন বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে প্রযুক্তি। একটা সময় ছিল যখন জমির মালিককে আগাম টাকা ও বিনাপয়সায় শ্রম দিয়ে শ্রমিকরা ধান কাটত। হালে সময় বদলেছে। শ্রমের ধরনও বদলেছে এবং বদলাচ্ছে। একসময় ধানকাটা শ্রমিকের হাতিয়ার ছিল কাস্তে। এখন সে জায়গা দখল করেছে যন্ত্র। কাস্তের পাশাপাশি এখন যন্ত্র দিয়ে কাটা হচ্ছে ধান। তবে যেসব শ্রমিক এখনো কাস্তে নির্ভর তারা ধানের গোড়া থেকে নয়, শুধু শীষটুকু কাটতে চান। কেননা গোড়া থেকে ধান কাটলে সময় বেশি লাগে, যন্ত্রের সাহায্যে মাড়াই করতেও ঝামেলা হয়। তাই তারা শুধু আগালটুকুই কাটতে চান। কিন্তু ধানের পাশাপাশি ধানের গোড়া বা খড়ের অংশটি কৃষকের জন্য অমূল্য সম্পদ। খড় বিক্রি করেই কৃষক লাভের মুখ দেখে। অথচ সেই খড়ই ঘরে তুলতে পারছেনা তারা।
সরেজমিনে বিভিন্ন ধান ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে জমিতে ধান পেকে থাকলেও শ্রমিক না পেয়ে কাটা বা মাড়াই করতে পারছেন না কৃষকরা। কিছুদিন আগে আবার ঘূর্ণিছড় ফণীর প্রভাবে বেশ কিছু জমির ধান মাটিতে হেলে পড়ে। তার উপর গত সোমবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে বাকি ধানও হেলে পড়েছে। ফলে কৃষকরা এবার বোরোধান নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।
নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। বেশ কিছুদিন থেকে জমিতে ধান পেকে আছে, এখন পর্যন্ত ২ বিঘা কাটতে পেরেছি।’ তিনি আরো বলেন- ‘একদিকে ধানের দাম কম, অন্যদিকে স্থানীয় শ্রমিকরা নিজ এলাকা বাদ দিয়ে অন্য উপজেলায় ধান কাটতে চলে গেছে।’ চলে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেখানকার জমির ধান মোটা আঁটি কেটে সাথে সাথে মাড়াই করার কারণে মজুরি দিনে এখানকার চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছে তারা।’
ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম বলেন- ‘আমার ১০ বিঘা বোরো ধান আছে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত এক বিঘার ধানও কাটতে পারিনি।’
নাচোল ইউনিয়নের জোনাকিপাডা গ্রামের মিঠু আলী জানান, তার ৪ বিঘা ধান আছে; কিন্তু সময়মতো কাটতে পারছেন না। কসবা ইউনিয়নের কলাবোনা গ্রামের সাকির হোসেন জানান, তার ১৭ বিঘা ধান আছে। এ পর্যন্ত ৬ বিঘা কাটা হয়েছে। এলাকার শ্রমিকরা অন্য উপজেলায় চলে যাওয়ায় সময়মতো ধান-কাটা মাড়াই করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৫০ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৮৫০ হেক্টর, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৫ হাজার ৪৭৫ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৫ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরোধান আবাদ করেছেন কৃষকরা।