মাশরাফি-গেইল যেখানে পাশাপাশি

গত দুই বিপিএলে দুজন ছিলেন সতীর্থ। সাফল্য-ব্যর্থতায় ছিলেন সঙ্গী। আন্তর্জাতিক আঙিনায় আবার দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী। আসছে বিশ্বকাপে হবেন প্রবল প্রতিপক্ষ। তবে এই বিশ্বকাপই একটা জায়গায় বন্ধনীতে রাখছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ক্রিস গেইলকে। ২০০৩ বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে কেবল এই দুজনই আছেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।
থাকতে পারতেন আরও একজন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণার পর শেষ হয়ে গেছে সেই সম্ভাবনা। ১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে থাকা মারলন স্যামুয়েলস খেলে চলেছেন এখনও। তবে সবশেষ গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের খেলে যাওয়া ব্যাটসম্যান এবার জায়গা পাননি ক্যারিবিয়ানদের বিশ্বকাপ দলে।
গেইলের এটি হতে যাচ্ছে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ। হতে পারতো ষষ্ঠ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগেও কড়া নাড়ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দুয়ারে। ১৯৯৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন তিনি। তার প্রতিভার আলো ছড়িয়ে পড়ছিল ক্যারিবিয়ানে। আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেবার জায়গা পাননি ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে।
পরে কার্ল হুপার আচমকা অবসর নিয়ে বিশ্বকাপ দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবেও আলোচনায় ছিল গেইলের নাম। তবে বদলি হিসেবে গিয়েছিলেন গেইলের জ্যামাইকা সতীর্থ ও আরেক বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান রিকার্ডো পাওয়েল। গেইলের সুযোগও আসে দ্রুতই। বিশ্বকাপের মাস তিনেক পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে নামেন।
১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা আরেকজনের পথচলা এখনও চলছে সদর্পে। যাচ্ছেন এই বিশ্বকাপেও। পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। সাকলায়েন মুশতাকের ‘ক্লোন’ অফ স্পিনার হিসেবে শুরু করে পরে হয়ে উঠেছেন পুরো দস্তুর ব্যাটসম্যান। তবে মাশরাফি-গেইলের পাশে থাকতে পারছেন না, কারণ পাকিস্তানের ২০০৩ বিশ্বকাপ দলে ছিলেন না মালিক।
গেইল ও মাশরাফির জন্য ২০০৩ বিশ্বকাপ ছিল দুই রকম। শুরুটা ভালো না হলেও শেষ দুই ম্যাচে রান পেয়েছিলেন গেইল। মাশরাফি চোট নিয়ে ছিটকে যান প্রথম দুই ম্যাচ খেলেই।
চোট কাটিয়ে ১৪ মাস পর ওই বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন মাশরাফি। কিন্তু বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হানা দেয় ভূতুড়ে চোট। অনুশীলনে বলের ওপর পড়ে মচকে যায় পা। শেষ হয়ে যায় তার প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান।
অল্পের জন্য তাই সেবার দেখা হয়নি মাশরাফি ও গেইলের। বাংলাদেশের বিপক্ষে শূন্য রানে ফিরেছিলেন গেইল, উইকেটটি নিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হতাশার বিশ্বকাপ অভিযানে গেইল ব্যর্থ ছিলেন প্রথম চার ম্যাচে। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফটি ও কেনিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি দিয়ে শেষ করেন বিশ্বকাপ।
গেইলের এটি পঞ্চম বিশ্বকাপ হলেও মাশরাফির হতে যাচ্ছে চতুর্থ বিশ্বকাপ। দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপে ফিটনেস ইস্যুতে বিতর্কিতভাবে বাইরে রাখা হয়েছিল মাশরাফিকে। সেই তিনিই এবার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন দুটি বিশ্বকাপে।
নিশ্চিতভাবেই দুজনের শেষ বিশ্বকাপ এটি। বিশ্ব আসরের অপূর্ণতাগুলোকে পূর্ণতায় রুপ দেওয়ার শেষ সুযোগও।