রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন বনলতা ট্রেন একদিনেই বিক্রি হলো আড়াই হাজার টিকিট

রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস রেলভ্রমণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই ট্রেনের যাত্রী হতে টিকিট কাটার জন্য কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন দিচ্ছেন যাত্রীরা। টিকিট হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা।  শুক্রবার ছুটির দিনেও রাজশাহ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। বনলতা ট্রেনের টিকিট ছাড়া হয়েছে আজ শনিবার থেকে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে। শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মোট ২ হাজার ৪০৩টি টিকিট। এর মধ্যে ৭৬২টি এসি (স্নিগ্ধা) চেয়ার এবং ১ হাজার ৬৪১টি শোভন চেয়ারের টিকিট।
রেলওয়ে স্টেশনে কথা হয় টিকিট কাটতে আসা রাইসুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে ২৭ এপ্রিল ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী হওয়ার কথা ছিল তার। আগাম ৫টি টিকেটও কেটেছিলেন। কিন্তু ছেলেমেয়েরা বনলতায় যেত চায়। ধূমকেতুর টিকেট ফিরিয়ে দিয়ে বনলতা এক্সপ্রেসের টিকিট নিলেন। বনলতার প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে উচ্ছ্বসিত রাইসুল ইসলাম। একই অভিব্যক্তি অন্য যাত্রীদেরও। খবর জাগো নিউজ টুয়েন্টি ফোর।
তবে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে কথা বলেছেন কেউ কেউ। তারা জানিয়েছেন, সকাল ৭টায় ছেড়ে বনলতা এক্সপ্রেসের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে। ঘণ্টা দুয়েক সময়সূচি এগিয়ে নিলে রাজশাহী থেকে ঢাকায় অফিসগামী লোকজন বিশেষ সুবিধা পেতেন। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানান যাত্রীরা।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্রির জন্য প্রতিদিন শোভন চেয়ারের ৭৭৯টি এবং এসি (স্নিগ্ধা) চেয়ারের ১৬০টি টিকিট ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ টাকা খাবার মূল্য যোগ করে শোভন চেয়ার ৫২৫ টাকা এবং এসি (স্নিগ্ধা) চেয়ারের টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭৫ টাকা করে। আজ শনিবার ২৭ এপ্রিলের এসি (স্নিগ্ধা) চেয়ারের সবগুলো টিকিট বিক্রি হয়েছে। ওই দিনের শোভন চেয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪ শতাধিক। ২৮ এপ্রিলের ১৩৩টি এসি (স্নিগ্ধা) এবং ১৬৬ শোভন চেয়ারের টিকেট বিক্রি শেষ। ৭০টি এসি (স্নিগ্ধা) এবং ৮৫টি শোভন চেয়ার টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৯ এপ্রিলের। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের ৫৩টি এসি (স্নিগ্ধা)ও ৬৬টি শোভন চেয়ার, ১ মের ৮৫টি এসি (স্নিগ্ধা) ও ১০৫টি শোভন চেয়ার, ২ মের ৬৩টি এসি (স্নিগ্ধা) ও ২২৯টি শোভন চেয়ার, ৩ মের ৫০টি এসি (স্নিগ্ধা) ও ২২৫টি শোভন চেয়ার, ৪ মের ৯২টি এসি (স্নিগ্ধা) ও ২২৯ শোভন চেয়ার এবং ৫ মের ৫৬টি এসি (স্নিগ্ধা) এবং ২১৭টি শোভন চেয়ার টিকেট বিক্রি হয়েছে।
রাজশাহী রেল স্টেশনের ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, প্রথম দিনেই টিকিটের জন্য কাউন্টারে ভ্রমণকারীদের ভিড় উপচে পড়েছে। প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় খুশি এই অঞ্চলের মানুষ। আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়া মানুষ রেল ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত এই নয় দিনের টিকেট বিক্রি হচ্ছে কাউন্টারে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রেলওয়ে স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন যে কেউ।
অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনের মতই বনলতা এক্সপ্রেসের টিকিট নিতেও লাগছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। যাদের এটি নেই, তারা জন্ম নিবন্ধনপত্র দিয়েও টিকিট নিতে পারবেন। টিকেট বিক্রিতে অনিয়ম ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে বলেও জানান রেল স্টেশন ম্যানেজার।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বনলতা এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজশাহী-ঢাকা রুটের প্রথম ও একমাত্র বিরতিহীন এই ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে। ঢাকা থেকে ছাড়বে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এবং রাজশাহী পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়। শুক্রবার বাদে নিয়মিত চলাচল করবে ট্রেনটি।