সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্তরায় এবং একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যয়িত করে এর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কে কোথায় সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডের সঙ্গে লিপ্ত সেটা শুধু গোয়েন্দা সংস্থাই নয়, আমাদের দেশবাসীকেও সতর্ক থাকতে হবে এবং এদের খুঁজে বের করে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।’ ‘কারণ, আমরা দেশে শান্তি চাই। শান্তিই দিতে পারে উন্নতি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ হলেই দেশ এগিয়ে যাবে,’ যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা  বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-রাজশাহী রুটে প্রথম বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেসের উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসস।
প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির নাতি ছোট্ট শিশু জায়ান চৌধুরীর কলম্বোয় বোমা হামলায় মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, কয়েকদিন আগে ২১ তারিখে শ্রীলঙ্কায় যে ঘটনা ঘটল তাতে আমরা বাংলাদেশের কয়েকজনকে হারিয়েছি। সবথেকে দুর্ভাগ্য অনেকগুলো শিশু সেখানে মারা যায়। যেখানে আমাদের বাংলাদেশের শিশু জায়ানকে হারাতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর অনেক চেষ্টা চলছে। তবে, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ ফজলুল হক মনির ছোটভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের প্রথম সন্তান এই জায়ান। তাকে এভাবে আজকে জীবন দিতে হল। আমরা চাই না এ ধরনের কোনো শিশুর মৃত্যু। তিনি বলেন, আজ যেহেতু ৮ বছরের শিশু জায়ান চৌধুরীকে আমরা হারিয়েছি। আমি জানি না যারা এ ধরনের হত্যাকা- চালায় তারা কি পায়, কি লাভ তাদের হয়? মানুষের ঘৃণা এবং অভিশাপ ছাড়া আর কিছু তারা পায় না।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা ইসলাম ধর্মের নাম নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চালায় তারা এই পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করছে। বিশ্বব্যাপী এই পবিত্র ধর্মের বদনাম করছে। তারা আসলে ইসলাম ধর্মের প্রচ- ক্ষতি করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যে ধর্ম সব থেকে মানবতার ধর্ম, সব থেকে শান্তির ধর্ম- সেই ধর্মের নামে তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে। কাজেই এ ধরনের কাজে যারা সম্পৃক্ত- তাদেরকে বিরত থাকতে হবে।’ ‘সে কারণে আমি সব অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বাংলাদেশের জনগণ এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন বা ধর্মীয় শিক্ষাগুরু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা প্রত্যেককে আমি বলব, যার যার আওতায় যে সমস্ত শিশু, কিশোর, যুবক-যারা রয়েছেন বা ছাত্ররা যারা রয়েছেন বা শিক্ষকরা রয়েছেন বা সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি এ ধরনের একটা প্রবণতা দেখা দেয় সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে সবাইকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত রবিবার শ্রীলঙ্কায় গির্জা, অভিজাত হোটেল ও কলম্বোর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এসময় গণভবন প্রান্তের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জুম্মার খুৎবায় সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তরুণ এবং যুবসমাজকে এ সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার প্রতিটি মসজিদে শ্রীলঙ্কার এই বোমা হামলা এবং জায়ান চৌধুরীর নিহত হওয়ার ঘটনায় এবং এর আগে নিউজিল্যান্ডের দু’টি মসজিদে গুলি চালিয়ে মুসলমানদের হত্যার ঘটনায় আপনারা দোয়া কামনা করবেন। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন যারা আছেন তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা দয়া করে জঙ্গিবাদ যে ইসলাম ধর্মের জন্য ক্ষতিকারক তা জনগণকে বোঝাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশে প্রত্যেক মসজিদে জুম্মার নামাজের খুৎবায় জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং ইসলাম যে শান্তির ধর্ম সে কথাটা ভালোভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৫শ’ জায়গায় একই দিনে বোমা হামলা থেকে শুরু করে গ্রেনেড হামলা, মানুষ খুন করা, আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন, জেল, জুলুম, অত্যাচার ছাড়া আর কিছু তারা করেনি। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যারও কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা দেখেছি অগ্নিসন্ত্রাস, এই বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়েছে। আমরা রেলের নতুন নতুন বগি কিনেছি আর তারা সেগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিআরটিসি বাস কিনেছি সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া প্রাইভেট গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ এমন কিছু নেই যা তারা অগ্নি সন্ত্রাসের কবলে ধ্বংস না হয়েছে। আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা আর বাংলাদেশে ঘটুক।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকার দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দেশে একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন এবং সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।