রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস চালু হলো

চালু হলো রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্রথম বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটি চলাচলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। হুইসেল বাজিয়ে এবং সবুজ পতাকা উড়িয়ে তিনি ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদ ও রাজশাহীর আমের কথা মাথায় রেখে এ সময়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করা হচ্ছে। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এসময় গণভবন প্রান্তের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জ¦ল হোসেন নতুন চালুকৃত বনলতা এক্সপ্রেসসহ সমগ্র রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বক্তৃতা করেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী-ঢাকার মধ্যে প্রথম বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামটি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। ১২টি বগি নিয়ে ট্রেনটি বিরতিহীনভাবে চলবে। এসব বগির মধ্যে শোভন চেয়ারের বগি ৭টি, যার আসন সংখ্যা ৬৬৪টি। এসি বগি ২টি, আসন সংখ্যা ১৬০টি। এছাড়া একটি পাওয়ার কার রয়েছে, যার আসন সংখ্যা ১৬টি। দুটি গার্ডব্রেকের আসন সংখ্যা ১০৮টি। এছাড়া ট্রেনটিতে রয়েছে একটি খাবার বগি। মোট আসন সংখ্যা ৯৪৮টি। ট্রেনটিতে সংযুক্ত রয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়োটয়লেট। এ কারণে মলমূত্র রেললাইনের ওপরে পড়বে না। ট্রেনটিতে থাকছে রিক্লেনার চেয়ার। আছে ওয়াইফাই সুবিধা। প্রতিটি বগিতে রয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। যার মাধ্যমে স্টেশন ও ভ্রমণের তথ্য প্রদর্শন করা হবে। রাজশাহী থেকে ঢাকায় পৌঁছতে ট্রেনটির সময় লাগবে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। সপ্তাহের শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টায় ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। আবার দুপুর দেড়টায় ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হলেও ট্রেনটি শনিবার থেকে নিয়মিতভাবে চলাচল করবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন রেলের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খোন্দকার শহিদুল ইসলাম।