চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিষমুক্ত আম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ মতবিনিময় সভা

বড় আমবাগানে কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাগানে কিংবা আড়তে আম পাকানোর জন্য কোনো ধরনের কেমিক্যাল, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহার করা যাবে না। কাজেই এ রায় নিয়ে কারোরই বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক এক মতিবিনিময় সভায় আমচাষী, বাগানমালিক ও আড়তদাররা ক্ষতি হবেন এমন বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক ও জেলা পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা, আম গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান, গোমস্তাপুর উপজেলা আমচাষী সমিতির সভাপতি মাইনুল বিশ্বাস, রহনপুর আম আড়ত সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির বাবু, ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শিবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য শাকির হোসেন, কানসাট আম বাজারের আড়তদার মো. টিপু, কৃষি কমকর্তাগণসহ গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় আমচাষী, বাগানমালিক ও আড়তদাররা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা আম পাড়ার সময় বেঁধে না দেয়া এবং আমের ওজন জেলার সর্বত্র একই রকম করার দাবি জানান।
গম্ভীরা শিল্পী ও গণমাধ্যমকর্মী মাহবুব হোসেন আম পাকানোতে কেমিক্যালের ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, শুধু জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপার এ বিষয়ে মনিটরিং করলে হবে না, আমরা সবাই মিলে মনিটরিং করলে এটা এড়ানো সম্ভব হবে।
ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন জানান, মুকুল ঝরে পড়া রোধ কিংবা আমে পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে। এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। কেউ কেউ দ্রুত আম পাকানোর জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকেন, তা করা যাবে না।
জেলা পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, সত্যিকার অর্থে হাইকোর্টের রায়ে কারোরই ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে শুধু বাগানে কিংবা আড়তে আম পাকানোর জন্য কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার করা যাবে না; যা মানবদেহের ক্ষতি করে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে আমে কোনো কীটনাশক বা আমকে জোর করে পাকানোর জন্য প্রকৃতিবিরুদ্ধ কোনো কাজ হচ্ছে কিনা তা নজরদারি করা। গত বছরও আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছি। অনেক মামলাও হয়েছে। যার কারণে গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ওপর আক্রমণ খুব কম ছিল। কারণ এখান থেকে আম যাচাই করে গেছে। এজন্য আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের আম ভালো। এই ভালোটা ধরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ভয়টা আসলে সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে। সংরক্ষণ করতে গিয়ে দেখা গেল এমন কেমিক্যাল ব্যবহার হয়ে থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন, একই সাথে আমরাও পুলিশকে এনডোর্স করে দিয়েছি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, এখন থেকে আমচাষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা আম গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্যাডে আম বাগান পরিচর্যায় কী কী ব্যবহার করতে হবে তার প্রেসক্রিপশন নেবেন এবং লগবই চালু করবেন। বাগানে কোন কোন সময় কি কি ওষুধ দেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার প্রেসক্রিপশন ফলো করা হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করবেন। আড়তে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এসপিসহ আমাদের আমের বাণিজ্যিক বাজার পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে, আমরা তা করব। এছাড়া আমে মেশানোর জন্য যারা অবৈধ বিষাক্ত ওষুধ বিক্রি করছে তাদের খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজনে দোকানদারদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। আমের ওজন বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সর্বত্রই একই নিয়ম মেনে চলা দরকার। এজন্য এবার ৪০ কেজিতে এক মণ ওজন নির্ধারিত করার জন্য তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানান।