চাঁপাই নবাবগঞ্জে নববর্ষ উদযাপন

14

জাহাঙ্গীর সেলিম

পহেলা বৈশাখ। নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষাভাষী জনগণের সবচেয়ে বড় উৎসব ও আনন্দের দিন। এ দিন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কোন ভেদাভেদ থাকে না উৎসব পালনে। প্রকৃত পক্ষে এ দিনটি বাংলাদেশে সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। কী হিন্দু, কী মুসলমান, কী বৌদ্ধ, কী খ্রিস্টান সকলেই নববর্ষ পালনের উৎসবে একাকার। এদিন এক অভূতপূর্ব মিলন কেন্দ্র। যে কারণে যতসব আনন্দ, উচ্ছ্বাস, হৈ-হুল্লোড়, গ্রামীণ পসরার মেলা এবং খাওয়া দাওয়া, পোশাক পরিচ্ছদেও বাঙালীয়ানার বহিঃপ্রকাশ। তবে আনন্দ উপভোগ কখনও একার হয় না, পরিবার পরিজন, বন্ধুবান্ধব, আবল বৃদ্ধবনিতা সকলেই কাঁধে কাঁধ বা হাত ধরাধরি করে উৎসব উদ্যাপনে সামিল। উৎসবে স্বতঃস্ফূর্ত বিদেশীদের অংশগ্রহণ আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের সাথে ১৯৮৯ সাল থেকে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ এবং দেখার বাসনা আনন্দ প্রকাশের মাত্রা আকাশমুখী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্বে ইনট্যানজেবল হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে, এ কথা আমাদের সকলের জানা। উল্লেখ্য, এ সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী এক সামাজিক পরিবর্তন এবং উৎসব উদ্যাপনে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। এক দশক থেকে সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কারণে দেশের মফঃস্বল জেলাসহ গ্রামে গঞ্জে একই জোয়ার বয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে ।
উত্তরের এক নিভৃত ও সব দিক দিয়ে পশ্চাদপদ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলা সবগুলো উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে। প্রায় ১৬ লাখ জনপদে মুখর। জীবন জীবিকার প্রধান অবলম্বন কৃষি ও কায়িক শ্রম। হালে কিছু স্বয়ংক্রিয় চালকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শিল্পকারখানা এমন কি কুটির শিল্পও গড়ে উঠেনি। তাসত্ত্বেও বিবিএস পরিসংখ্যানে দেশের জিডিপি-তে অবদান প্রায় এক শতাংশ। এক মাত্র কৃষিই ভরসা এবং খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। একদিকে পশ্চাদপদতা, অন্যদিকে দরিদ্র্য ও বেকারত্ব জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বোধকরি সবচেয়ে বেশি এবং তারা হতাশায় নিমজ্জিত। খেটে খাওয়া লোকজন ও কৃষকরা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে, রাজনীতির ধার ধারে না। তবে রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, জবরদখল, অত্যাচার, অনাচার লুটপাট, হানাহানি, মারপিট ইত্যাদি প্রভাব থেকে এ জেলা মুক্ত নয়। এক সময় মৌলবাদের উত্থান ঘটে এবং বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা অনেকেই খোলস পাল্টেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় রাজনৈতিক শূন্যতা দীর্ঘদিনের। মৌলবাদের বহিঃপ্রকাশ অন্য জেলার মত এখানে কখনও সেভাবে দৃশ্যমান ছিল না। যদিও এইসব বিষয় নিয়ে বক্ষমান প্রবন্ধে আলোচনা করার ইচ্ছে নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকে বিদ্যমান এবং গৌড়ীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এক সময় শিল্পকলার সর্বক্ষেত্রে গৌরব গাথার জ্বলজ্বলে ইতিহাসে সমৃদ্ধ ছিল। এখনও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সে সব সংস্কৃতির ছিটেফোঁটা উপস্থিতি বিদ্যমান। সংগীতের ভূবনও ছিল সর্বজনবিদিত। এ জেলায় আলকাপ গানের উৎপত্তি হয়ে অভিন্ন বাংলার মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, দিনাজপুর, মালদহ, রাজশাহি প্রভৃতি জেলায় আমজনতার বিনোদনের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। আলকাপ গান বর্তমান মূমুর্ষূ অবস্থায়। সত্যপীরের গান হারিয়ে গেছে। কিন্তু হাজার বছরের অধিক পুরানো এবং সাড়াজাগানো গম্ভীরা এখনও দেশব্যাপী সদর্পে বিদ্যমান। অস্বীকার করার উপায় নেইÑ মৌলবাদীদের হস্তক্ষেপে ঝা-িগান হারিয়ে গেছে, যদিও এই নামে এক ধরনের গুণকীর্তনের নতুন ধারা সীমিত পর্যায়ে চালু হয়েছে।
জেলার সাংস্কৃতিক বিষয়াদি উত্থান পতনের পরেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলা নববর্ষ পালনে জনগণের মাঝে এক অভুতপূর্ব জাগরণের সৃষ্টি করেছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়। সকাল বেলা মঙ্গল শোভাযাত্রার রমরমা উপস্থিতি এখানেও দৃশ্যমান এবং জানা যায় জেলার প্রায় প্রতিটি স্কুল-কলেজে শোভাযাত্রাসহ দিনটি পালিত হচ্ছে। এ স্থানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান উদ্যাপন এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় স্কুল কলেজের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে শহরের সাথে গ্রামীণ জনপথ। আরও একটি অনুসঙ্গ যোগ হয়েছেÑ ছেলেমেয়ে ও মহিলাদের বৈশাখকে কেন্দ্র করে নতুন বৈশাখী জামাকাপড় ও শাড়ী পরার ধূম। ইলিশ পাতে না থাকলেও পানতা, দৈ-চিড়া ও অন্য খাবারের ফিরিস্তির কমতি থাকে না।
আমার জীবন জীবিকা ও অবসরের পরেও ঢাকায় দীর্ঘ বসবাস এবং ১৯৭২ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর সূর্যোদয়ের আগেই রমনার বটমূলে যাবার অভ্যাসে পরিণত হয়। সে সময় বটমূলে সামনে খোলা সবুজ চত্বরটি (যা এখনও বিদমান) সংস্কৃতিমনা লোকজনের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠত। লেকের পাড়ে বসে আড্ডা ও ছায়ানটের অনুষ্ঠান উপভোগ ছিল প্রধান আকর্ষণ। পরবর্তী বছরগুলো থেকে লোকজনের পদচারণা বিপুল পরিমাণে বাড়তে থাকে। ছায়ানটের অনুষ্ঠান বর্তমানে জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। বটমূলের পদচারণা এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার কারণে পয়েলা বৈশাখ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশের মাত্রাও বহুগুণ বেড়েছে। এ মঙ্গল শোভাযাত্রার উল্লেখযোগ্য দিক হলো রাজধানীর মধ্যে সীমবদ্ধ না থেকে দেশব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করেছে।
চলতি বছরে হঠাৎ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মঙ্গল শোভাযাত্রা দেখার সুযোগ হয়। জেলা প্রশাসনের সামনে আমবাগনের শীতলছায়া ও ঝুলে থাকা কচি কচি আম মধুমাসের আগমনী বার্তা বয়ে আনছে । এ চত্বরেই হঠাৎ করে দেশের প্রখ্যাত গায়িকা ইফ্ফাত আরা নার্গিসের দেখা পেলাম। আলাপে জানা গেল দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে তার আগমন এবং একই সাথে চামাগ্রামের পৈত্রিক বাড়ি ঘুরে দেখা। এ আমচত্বর থেকে স্কুল কলেজ, বিভিন্ন সংগঠন সুশীল সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু করে বিভিন্ন পথ ঘুরে একই স্থানে ফিরে আসে। তবে এ শোভাযাত্রা এক ভিন্ন মাত্রার। এতে আবহমান গ্রামবাংলার রমরমা উপস্থিতি। রঙ-বেরঙের পোশাক পরিচ্ছদের অপূর্ব সমারহ। গৃহবধূ ও তরণীদের বাহারি শাড়ীর পাশাপাশি ছেলে যুবা বয়স্কদেরও গায়ে বাহারি পাঞ্জাবি। দুবছরের এক কন্যা একেবারে মাথায় ঘোমটাসহ শাড়ী পরে বউ সেজে বাবার হাত ধরে হেঁটে চলেছে। এরকম শোভাযাত্রা গ্রীন ভিউ স্কুলের ছোটমণিদের বিভিন্ন সাজ যেমন, কৃষকের বেশেÑ লুঙ্গি পরে ঘাড়ে গামছা ও লাঙ্গল, হাতে লাঠি, দিনমজুর কৃষকের সাজÑ মাথায় মাথাল ও হাতে কাস্তে বা নিড়ানি, পলোয় ও জাল ঘাড়ে জেলে ও জেলেনী। রিক্সাভ্যানে রীতিমত বিয়ের আসর। বিয়ের গীতের সাথে কন্যার গায়ে হলুদ ও হলুদ মাখানোর যাবতীয় সারঞ্জাম, বরকন্যা, বরযাত্রী সবকিছু ভ্যানের উপর জীবন্ত উপস্থিতিÑ পাল্কিও সাথে ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও কম কিসে! লাল শাড়ি পরে কলস কাঁকে। ছেলেরা অসাম্প্রতিক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে দেখা যায়Ñ চার ধর্মলম্বীর প্রতিচ্ছবি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বেশ ধারণ করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথচলায় সামিল। এই স্কুলের ছাত্রীরা সাঁওতাল রমনীর পরিচ্ছদে খোঁপায় তিনটি করে আমপাতা গুজে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ সংস্কৃতিমোদিদের দৃষ্টিআকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ তো পুরোপুরি গ্রাম বাংলার আবহমান রূপের বহিঃপ্রকাশ। প্রাচীনকাল থেকে তারা নববর্ষকে এ ভাবেই রবণ করে নিত।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির বর্ষবরণ উদ্যাপন, শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠান আয়োজন যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় বহন করে। যতসব বাহারি পাঞ্জাবি এ সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মীরা পরিধান করে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। পাঞ্জাবির মধ্যেও বিভাজন। জানা গেলÑ জেলা ও জেলার বাইরে ৭টি অঞ্চলের ৪৬টি ইউনিট অফিস ও প্রধান কার্যালয়ের প্রায় ৪০০ কর্মী অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি ইউনিট স্বতন্ত্র পোশাকে মহিলা ও পুরুষ কর্মীরা তাদের উপস্থিতি তুলে ধরে এবং শোভাযাত্রায় বৈচিত্র ফুটিয়ে তোলে। মহিলা কর্মী শোভাযাত্রায় সত্যিকারের পান অন্যের মুখে পুরে দিয়ে মুখ রাঙিয়ে দিচ্ছে। এক সময় গ্রাম বাংলায় ঘাড়ে বাহকে করে খাদ্যদ্রব্য, জিনিসপত্র, বিশেষ করে ব্যভার বহন করা হতো। এ শোভাযাত্রায় বেশকিছু বাহকে ব্যভার সামগ্রী বহন করতে দেখা গেল। এছাড়া বাহকের দুপাশে মাটির ঠিলা বেঁধে শীতকালে গ্রাম বাংলায় খেজুরের রস বিক্রির দৃশ্য ফুটে উঠেছে। রিক্সাভ্যানে ঢেঁকি, যাতাও মনযোগ আকর্ষণ করে। ছাত্রদের বাঁশির আবলতাবল সুরের সাথে ঢাক ও ঢোলের সংযোজন আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। শোভাযাত্রায় ঘুড়ি, নানা ধরনের ফেষ্টুনে বিভিন্ন পাখি ছাড়াও কয়েকটা বড় দোয়েলের প্রতিকৃতি দেখা যায়। জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমি অস্থায়ী মঞ্চের পাশে মুষ্টিমেয় কয়েকটি স্টল তৈরি করে। প্রতিটি স্টল ভিন্ন ধরনের Ñ ছবি আঁকা প্রদর্শনী, স্কাউট কর্ণার, দেয়ালিকা, কিছু সংখ্যক পুস্তুক প্রদর্শনী, বিজ্ঞান প্রজেক্ট কর্ণার ইত্যাদির সামনে বাহারি শিকায় রঙ-বেরঙের কলস দর্শনীয় হয়ে উঠে। ভবিষ্যতে আয়োজক বা জেলা প্রশাসককে এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বইমেলার আয়োজন করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কেননা জেলায় কোন বই মেলার আয়োজন করা হয় না। সেহেতু ছাত্রছাত্রীরা পাঠ্যপুস্তুকের বাইরে জ্ঞান চর্চার জন্য গল্প, কবিতা, ছড়া, রূপকথা, ভ্রমণকাহিনী, উপন্যাস ইত্যাদি বই নিজেদের পছন্দমত নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেবার সুযোগ পায় না এবং একই সঙ্গে কেনার সুযোগও নেই। তাছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অথবা অন্য কোন উপলক্ষ/উৎসবে বই উপহার দেবার সংস্কৃতি চালু করার বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। শোভাযাত্রার শেষে মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন বাদ যায়নি। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্থানীয় শিল্পী স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। এতসব আয়োজন, উৎসব পালন মৌলবাদ চিন্তা চেতনার মুখে চপেটাঘাট স্বরূপ।

প্রয়াসের নিজস্ব প্রাঙ্গনে সহকর্মীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করার মত, আপ্যায়ন করে মুড়ি-মুড়কি-বাতাসা-মোয়া দিয়ে। কর্মীরা নাচ, গান, কবিতা আবৃতি, কৌতুক পরিবেশন করে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত করে তোলে। তাদের কর্মী মৌসুমি ও শিখা রানী সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন। মৌসুমি সত্যিকার অর্থে এক নাচুনে বালিকা। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করলে দেশের একজন চৌকশ নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তার চোখের চাউনি, মুখের সাথে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পূর্ণ নাচের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করি। শিখা রানী একজন তবলা ও ঢোল বাদক। মঞ্চের পারফরমেন্সও চমৎকার। ঢাকায় বহু অনুষ্ঠান দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু একটিও নারী তবলা বাদকের দেখা মেলেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মত এক অনুন্নত মফঃস্বল জেলায় তাদের প্রতিভার বিকাশ কী ঘটার সুযোগ কোথায়? এখানে সেরকম ওস্তাদ বা প্রশিক্ষক নেই তাদেরকে গড়ে তোলার জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল জেলার প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শোভাযাত্রা ও উৎসব পালন করেছে। স্থানীয় লেখকদের উদ্যোগে বৈশাখি নামে এক সংকলন প্রকাশিত হয়। এসব কিছুই মূল ধারার সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতি ও প্রতিবেশি দেশের উদম নৃত্য-ধূমধাড়াক্কার গানের আধিক্যে বৈশাখের অনুষ্ঠান ম্লান করে দেয় বৈ-কি! বাঙালি সংস্কৃতি হাজার বছরেরও বেশি পুরানো। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির সাথে বিজাতীয় ধূমধাড়াক্কার প্রভাবে দেশীয় সংস্কৃতি মৃয়মান হয়ে পড়েছে। তবুও আশার কথা হচ্ছে বাঙালিয়ানা থেকে বিচ্যুত হয়নি। আমরা মনে করি বিজাতীয় সংস্কৃতির স্থায়ীত্ব ক্ষণস্থায়ী। গ্রাম বাংলার এই দেশে লোকজসংস্কৃতি হারিয়ে যেতে পারে না।

পরিচিতি : লেখক-কলামিস্ট