বাঙালির বর্ষবরণ

সাঈদ কামরুল

একটি গাছে দুটি পাখি ডাকছে বসে আয়,
আয় তোরা সব নব্য সাজে বাঙালি গান গায়।
জোরেশোরে বাংলা গানে হয় না বোশেখ পালন,
প্রাণের টানে নাড়ির টানে করে নিও লালন।
গ্রাম্য ঘৃণায় যখন তুমি শহর মাঝে থাকো,
গানের কলি দোতারার ছাপ তোমার গায়েই আঁকো।
হয়নি দেখা কেমন করে কামার যন্ত্র শাণায়,
দেখেছ কি কেমন করে কুমার হাঁড়ি বানায়?
বিলের ধারে সারি সারি কেমনে শাপলা ফোটে,
লাউয়ের খোলে কেমন করে একতারার সুর উঠে।
উষ্ণ ভাতে পানি ঢেলে ইলিশ দিয়ে মজাও,
বোশেখবিহীন জিনিস দিয়ে শূন্য ঘরটা সাজাও।
এক সকালের পান্তা ভাতে সাজো তুমি বাঙালি,
নিত্যদিনের পান্তাওয়ালা দিচ্ছে তোমায় গালি।
বাঙলা সনে হয় বঙ্গাব্দ হয় ফসলের সন,
পয়লা বৈশাখ কত তারিখ চৌদ্দই এপ্রিল এখন।
ধান গাছেরও তক্তা হয় যে ভুলে বিশ্বাস করো,
সেই তুমি ভাই গর্ব করে বাঙালি গান ধরো।
বাঙলা সনের শিকড় থাকে মা-খালাদের মুখে,
বৃথায় তুমি খুঁজতে যেও রঙিন পাতার বুকে।
কৃষক জানে ফসল কাটে ফসল ভরে গোলায়,
হৃদয় তার দুলতে থাকে বাংলা সনের দোলায়।
বাঙলার পাখি দেখছি আমি দেখব কত আর,
তোমার হৃদে উঠাতে চাই সভ্য বাংলার জোয়ার।
আমরা সবে এক বাঙালি গ্রাম কিবা শহর,
দেশী চর্চায় থাকব ডুবে সময় অষ্টপ্রহর।
বোশেখ শুধু বাহিরে নয় অন্তঃকরণে ধরি,
সংস্কৃতির বাঙালি চর্চায় বাঙালি জীবন গড়ি।
বিশ্ব তাতেই ফেলবে আঁখি বাঙালির হবে জয়,
হাজার বছরের দেশীয় চর্চায় রবো মোরা অক্ষয়।