পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রায় ব্যাগ ও মুখোশ নিষিদ্ধ

এসো হে বৈশাখ এসো এসো, তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক… বৈশাখকে এভাবেই ধরাতলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রবিবার পহেলা বৈশাখ। একটি নতুন দিন, একটি নতুন বছরের শুভ সূচনা। চৈত্রের রুদ্র দিনের পরিসমাপ্তি শেষে বাংলার ঘরে ঘরে নতুন বছরকে আহ্বান জানাবে সব বয়সী মানুষ। বাঙালির জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন এই পহেলা বৈশাখ। নব আলোর শিখায় প্রজ্বলিত হয়ে শুরু হবে আগামী দিনের পথচলা। হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজ বাঙালি হারিয়ে যাবে বাঁধভাঙা উল্লাসে। উৎসব, আনন্দ আর উচ্ছাসে ভরে যাবে বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। আজকের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সব জরা গ্লানি মুছে ফেলে সকলে গেয়ে উঠবে নতুন দিনের গান- ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…’।
এদিকে দিবসটি আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপনে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রাশাসন। এছাড়াও জেলা পুলিশ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পান্তাভাতসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। জেলার উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি প্রতিবারের মতো এবারো নানান কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
উৎসবকে সর্বজনীন করতে নিরাপত্তা বলায় তৈরি করেছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা বিশেষ টহলে থাকবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম গৌড় বাংলাকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যাগ নিয়ে এবং মুখোশ পরে অংশগ্রহণ করা যাবে না। কোনো মোটরসাইকেল চালক কোনো আরোহী নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের নারী সদস্যের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় থাকবে। তিনি আরো জানান, ৩ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। গোটা জেলা ও উপজেলা সদরগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সকল কর্মসূচি সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৭টায় জেলা কালচারাল অফিসার ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার ব্যবস্থাপনায় গ্রীনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের আম্রকানন সংলগ্ন বৈশাখী চত্বরে ছায়ানটের রমনা বটমূলের আদলে বর্ষবরণকে স্বাগত জানিয়ে দলগত সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট উপকমিটির ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে গ্রীন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয় আম্রকাননে সমাপ্ত হবে।
বৈশাখী চত্বরে সকাল ৯টায় বৈশাখী আপ্যায়ন, সকাল ১০টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সুবিধামত সময়ে লাঠি খেলা ও মোরগ লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্বসহ অন্যান্য গ্রামীণ খেলাধুলা, বেলা ১১টায় বৈশাখী শিশু মেলা, বিকাল ৪টায় যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা (ক-বিভাগ: শিশু থেকে ৫ম শ্রেণী, খ-বিভাগ: ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী), বিকাল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা, বিকাল ৫টা হতে সোয়া ৬টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কারাগার, হাসপাতাল, সরকারি ও বেসরকারি শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম এবং এতিমখানায় উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করবেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান।