বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত

9

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা ও প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন ডা.এসএফএম খায়রুল আতাতুর্ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইকবাল হোসাইন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাসহ অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি ও অভিভাবকগণ।
জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, আমাদের জেলায় বিভিন্ন রকমের ২২ হাজার ৭৭৯ জন প্রতিবন্ধী আছে। তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের বোন, তারা আমাদের সন্তান। একেকজন একেক রকমের প্রতিবন্ধী- শারীরিক প্রতিবন্ধী, অটিজম প্রতিবন্ধী, শ্রবণ-দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ইত্যাদি। তাই ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ উন্নয়নের আওতায় সবাইকে নিয়ে আসতে হলে, প্রতিবন্ধীদের বাইরে রাখলে হবে না। সত্যিকারের অর্থে ডেভেলপমেন্ট হবে না। তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী সম্পর্কে কেউ কেউ বলে থাকেন, এটা পাপের ফসল, এটা অভিশাপ ইত্যাদি। এগুলো খুবই অন্যায়, অনৈতিক এবং বেআইনি কথা। এগুলো বলা যাবে না। যদি কেউ বলে থাকেন, তাহলে তিনি অন্যায় করেছেন। দেশের আইনেও তিনি অপরাধী, এমনকি ধর্মীয় আইনেও তিনি অপরাধী। তাই যাদের এরকম সন্তান আছে তারাকে কখনো ঘরে বন্দী বা আলাদা করে রাখবেন না। তাকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, আগে দেখা যেত, অটিজম প্রতিবন্ধীকে কেউ বাইরে নিয়ে গেলে রাস্তায় অনেকেই ঢিল মারত, বিরক্ত করত, উত্ত্যক্ত করত। কিন্তু বর্তমানে সেটার পরিমাণ অনেক কম। তারপরও এসব বিষয়ে আমরা সচেতন থাকব। এই প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাদেরকে ভাতা প্রদান করা হয়। আর এই অটিজম প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যারা এখনো ভাতা পায় না তাদেরকেও ভাতা দিয়ে অটিজমদের শতভাগ ভাতা নিশ্চিত করব সবাই মিলে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যেতে হবে। সামনে বৈশাখী মেলা উদযাপন করা হবে, তখনো যেন সবাই এসব প্রতিবন্ধীকে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি সমাজে যারা বিত্তবান আছেন তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সবমিলিয়ে আমরা সবাই জেলার সকল প্রতিবন্ধীর জন্য বিশেষ করে অটিস্টিক মানুষদের নিয়ে কাজ করব। তাই শপথ করি, প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রাখবই। তাদেরকে আমরা কখনই অভিশাপ মনে করব না, পাপের ফসল মনে করব না।

সিভিল সার্জন ডা.এসএফএম খায়রুল আতাতুর্ক বলেন, অটিজম কোনো রোগ না। যেসব বাচ্চাদের অটিজম, তাদেরকে বলে অটিস্টিক। অটিজমের ক্ষেত্রে আমরা যে নীল আলো দেখি সেটা হলো শান্তির প্রদীপ। আমরা তাদেরকে আশা ও শান্তির প্রদীপ দেখাব। অটিজম সচেতনতা দিবসে আমরা নীল শাড়ি, নীল শার্ট, নীল পোশাক অর্থাৎ সবকিছুতেই নীল ব্যবহার করব। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর বয়সের যোগফল যত বেশি হবে অটিস্টিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। গ্রামে অটিস্টিকের হার অনেক কম ১.৪ এবং শহরে ১.৭ বা তারও বেশি। অটিস্টিক ছেলেই বেশি হয়। মেয়েদের হারটা তুলনামূলক অনেক কম। তিনি বলেন, প্রযুক্তির যথাযোগ্য ব্যবহারে তাদের অধিকারের ব্যাপারে আমরা সচেতন থাকব। সমাজে সবাইকে সাথে নিয়েই থাকব। এরাও সমাজের অংশ।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রতিটি বাড়ি, অফিস ও প্রতিষ্ঠানে আজ থেকে কম পক্ষে ৩ দিন নীলবাতি প্রজ্বলন করতে হবে। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত। তাই সকলকে নীলবাতি প্রজ্বলনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ২৫১ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি বাছাই করেছি। তাদের মধ্যে যারা শতভাগ ভাতা পায় না তাদেরসহ সকলকেই শতভাগ ভাতা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। প্রতিবন্ধীদের যে কোনো সমস্যার জন্য সকলকে তার দফতরে আসার আহ্বান জানান।

নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরেও বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলানায়তনে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সেলিম উদ্দিনের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার অফিসার ডা. মোহাম্মাদ নূর আলম দীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইবনু সাব্বির আহমেদ, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।