ভবনে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা দেখতে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা

বনানী ও গুলশানে অগ্নিকা-ের প্রেক্ষাপটে ঢাকার ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা দেখতে ১৫ দিনের বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
রাজউকের এই অভিযানে যে ভবনে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা যথাযথভাবে পাওয়া যাবে না, সেগুলো ‘প্রয়োজনে’ ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীর বহুতল ভবন এফএ টাওয়ারে অগ্নিকা-ে ২৫ জন নিহত এবং অর্ধশত আহত হন। ওই ভবনে যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা পায়নি ফায়ার সার্ভিস। এটি ভবন নির্মাণ নীতিমালা অনসুরণ করে তৈরি করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই অগ্নিকা-ের দুই দিনের মধ্যে আগুন লাগে গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেট লাগোয়া কাঁচাবাজারে। এতে কেউ নিহত না হলেও পুড়ে গেছে দেড়শর মতো দোকান। শনিবার গুলশানে অগ্নিকা-স্থলে পূর্তমন্ত্রী রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বহুতল ভবনে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা পরীক্ষার জন্য আজ রোববার থেকে ১৫ দিনের অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা না থাকা ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে সকল ভবনে অগ্নি নির্বাপনের সকল ব্যবস্থা নেই, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনে ভেঙে ফেলা হবে অথবা মালিক পক্ষকে ইমারত নির্মাণের সকল বিধি-বিধান সংযুক্ত করার পরে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে।

যারা অনিয়ম করে, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করেছেন, তাদের কোনো ছাড় নয়, বলেন মন্ত্রী। এফআর টাওয়ারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরাও ছাড় পাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, যিনিই জড়িত হন, মালিক হন, ডেভেলপার হন, এমনকি রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারী হন, তাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। অগ্নিকা-ে প্রাণহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ অপরিকল্পিত সব ভবন চিহ্নিত করা ঘোষণা দিয়ে রেজাউল করিম বলেন, মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনাকে আমরা নিছক দুর্ঘটনা বলব না, এটা পুরোপুরি হত্যাকা-। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কোথাও অনিয়ম হচ্ছে খবর পেলে আমাকে জানান, আমি সরাসরি ব্যবস্থা নেব, আহ্বান জানান তিনি। গুলশানে ডিএনসিসি মার্কেটে দুই বছরের মধ্যে দুই বার অগ্নিকা- ঘটল। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিএনসিসির এ মার্কেটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহনীয় নয়। রাজধানীকে পরিককল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব ভবন তৈরি হয়েছে তা একদিনে তৈরি হয়নি। তাই অবৈধ ভবন উচ্ছেদ করতে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু নতুন ঢাকায় আমরা যেসব স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছি, সেখানে রাজউকের পরিকল্পনার বাইরে চুল পরিমাণ যাওয়ার সুযোগ নেই। একেবারে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা হচ্ছে।