শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ

টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কা গড়েছিল ইতিহাস। উপমহাদেশের প্রথম দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় জিতেছিল টেস্ট সিরিজ। কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পুরোপুরি উল্টো চিত্র। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হোয়াইটওয়াশড হয়েছে সফরকারীরা। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের টর্নেডো ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়া দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে সহজেই।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৪৫ রানে জিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ ঘরে তুলেছে স্বাগতিকরা।
জোহানেসবার্গে রোববার প্রিটোরিয়াস ও রিজা হেনড্রিকসের ফিফটিতে ২ উইকেটে ১৯৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। লঙ্কানদের ইনিংসের দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলের পর বৃষ্টি নামলে তারা পায় ১৭ ওভারে ১৮৩ রানের নতুন লক্ষ্য। বৃষ্টি নামার আগে তাদের রান ছিল ৬ উইকেটে ১১১। লাসিথ মালিঙ্গার দল তার ধারে কাছে যেতে পারেনি। ৮ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ১৩৭ রানে।
দা ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত এইডেন মারক্রামকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। হেনড্রিকসের সঙ্গে ৯০ রানের জুটিতে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান প্রমোশন পেয়ে তিন নম্বরে নামা প্রিটোরিয়াস।
একটু মন্থর শুরু করা হেনড্রিকস পরে শট খেলতে শুরু করেন। ৫২ বলে দুই ছক্কা ও আট চারে ৬৬ রান করা এই ওপেনারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার জেফরি ভ্যান্ডরেসে।
ফাফ দু প্লেসির অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া দুমিনি ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন। দ্রুত জমে যায় প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে তার জুটি। পাঁচ ওভারে তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা।
এর আগে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেললেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি প্রিটোরিয়াস। এই অলরাউন্ডার নিজের প্রথম ইনিংসে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে করেন ৭৭ রান। তার ৪২ বলের টর্নেডো ইনিংসটি গড়া সাত চার ও তিন ছক্কায়। বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান দুমিনি ১৪ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে করেন ৩৪ রান।
বড় রান তাড়ায় ৭ চারে ২২ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন নিরোশান ডিকভেলা। তবে এগিয়ে আসতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনি ছাড়া দুই অঙ্কে যান কেবল অ্যাঞ্জেলো পেরেরা।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে সফরকারীদের সেরা ব্যাটসম্যান ইসুরু উদানা চার ছক্কায় করেন ২৩ বলে ৩৬। তার বিদায়ের পর আর এগোয়নি লঙ্কানদের ইনিংস! দলটি শেষ চার উইকেট হারায় শূন্য রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো ২৪ রানে নেন ৪ উইকেট।
বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়া প্রিটোরিয়াস জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। শেষ দুই ম্যাচে ফিফটি করা ওপেনার হেনড্রিকস জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৯৮/২ (মারক্রাম ১৫, হেনড্রিকস ৬৬, প্রিটোরিয়াস ৭৭*, দুমিনি ৩৪*; মালিঙ্গা ০/৪০, উদানা ০/৩৬, ডি সিলভা ০/৫, লাকমল ১/৩৮, দনাঞ্জয়া ০/৪২, ভ্যান্ডারসে ১/৩৫)
শ্রীলঙ্কা: (১৭ ওভারে লক্ষ্য ১৮৩) ১৫.৪ ওভারে ১৩৭ (ডিকভেলা ৩৮, ডি সিলভা ৮, ফার্নান্দো ১, মেন্ডিস ১, কামিন্দু ১, অ্যাঞ্জেলো ১৫, থিসারা ৮, উদানা ৩৬, দনাঞ্জয়া ৯, মালিঙ্গা ০, লাকমল ০, ভ্যান্ডারসে ০*; মরিস ০/২২, ডালা ২/২৯, ফেলুকওয়ায়ো ৪/২৪, প্রিটোরিয়াস ১/১২, শামসি ০/২০, সিপামলা ২/২২)
ফল: ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৫ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস
ম্যান অব দা সিরিজ: রিজা হেনড্রিকস