আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পিকেএসএফের সেমিনার

সমাজে নারীর ন্যায্য অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের অধিকার রক্ষায় নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। সেই ধারাবাহিকতায়, ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো; নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রবিবার একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রতিমা পাল-মজুমদার, সদস্য, পরিচালনা ও সাধারণ পর্ষদ, পিকেএসএফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী; তাই নারীদের উন্নয়ন সাধিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর ক্ষমতায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ফলে, বাংলাদেশে জেন্ডার বৈষম্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে নারীর অগ্রযাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য, সংকীর্ণ মানসিকতা, সহিংসতা এখনো দূর হয়নি। জাতীয় স্বার্থে একটি নারীবান্ধব সমাজ গঠনে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, একসময় অর্থনৈতিক উন্নতি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে সেই ধারণায় এখন পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মানব মর্যাদা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নারীর প্রতি সমাজের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে পিকেএসএফের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, স্বাগত বক্তব্যে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি বেগবান করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক যে সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা তুলে ধরেন। পিকেএসএফ তার ব্যাপক বিস্তৃত কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের এসব উদ্যোগ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাসমূহ কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থা শিশু নিলয় ফাউ-েশনের নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘কর্ম, সেবা ও জন সম্পদে নারীর অভিগম্যতা নিশ্চিতের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সম্পৃক্তকরণের বিষয়টি ত্বরান্বিতকরণ: পিকেএসএফ-এর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফ-এর মহাব্যবস্থাপক (কার্যক্রম) ড. একেএম নুরুজ্জামান। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান।
পিকেএসএফ সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দুই শতাধিক সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ১.৩৪ কোটি সদস্য পিকেএসএফের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত, যার মধ্যে ১.২৯ কোটিই (৯৬%) নারী। নারীর আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, বাজার তথ্য অবহিতকরণ, বাজার সংযোগ স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করছে পিকেএসএফ। দেশের কিশোরীদের নেতৃত্বে গুণাবলি বিকাশ এবং তাদের আত্মসচেতন ও অধিকার-সচেষ্ট করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পিকেএসএফ সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিশোরী ক্লাব গঠন করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত ও বেদে সম্প্রদায়ের নারী সদস্য এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নানাবিধ আর্থিক ও অ-আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে পিকেএসএফ।