সেবার মান বাড়াতে ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে নতুন বগি

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনগুলো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বগি বাদ দিয়ে অত্যাধুনিক নতুন বগি যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন বগিগুলোতে থাকবে বায়ো-টয়লেট ও প্রতিবন্ধীদের বসার জন্য বিশেষ চেয়ার। ফলে ট্রেনে যাত্রীসেবার মান আশানুরূপ বাড়বে। ওই লক্ষ্যে নতুন ২শটি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ বগি আমদানি করা হচ্ছে। রেলের পূর্বাঞ্চলে মিটারগেজ বগিগুলো যুক্ত হবে। আর পশ্চিমাঞ্চলে যুক্ত করা হবে ৫০টি ব্রডগেজ বগি। নতুন ওসব বগি আনতে খরচ হচ্ছে ৭৯৩ কোটি টাকা। তার মধ্যে ২০০টি মিটারগেজের জন্য ৫৮০ কোটি টাকা এবং ৫০টি ব্রডগেজের জন্য ২১৩ কোটি টাকা লাগছে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ট্রেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পিটি ইন্ডাস্ট্রি কেরেতা এপি (ইনকা) বগিগুলো প্রস্তুত করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জান যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত ট্রেনের নতুন বগিগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি মানসম্মত। বগিগুলোতে থাকবে বায়ো-টয়লেট, যা বিমানের টয়লেটের মতোই। তাতে রেললাইনে মলমূল পড়বে না। তাছাড়া পুরনো বগিগুলোতে যে ধরনের দুর্গন্ধ থাকে, নতুন বগিতে তা থাকবে না। প্রতিটি বগিতে জায়ান্ট স্ক্রিন থাকবে। ট্রেন কোথায় থামবে, কখন থামবে, তা সেই স্ক্রিনে জানানো হবে। তাছাড়া ওসব বগিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনগুলোতে যেসব বগি রয়েছে সেগুলোর মেয়াদ ৩৫ বছর। তবে নতুন বগিগুলোর মেয়াদ হবে আরো ১০ বছর বেশি, ৪৫ বছর। ইতিমধ্যে চালানে ১৫টি ব্রডগেজ বগি এসেছে। ১৮টি ব্রডগেজ বগির আরেকটি চালান শিগগিরই বুঝে পাওয়ার কথা। তারপর ব্রডগেজ বগির আরো একটি চালান আসবে। আর মে মাস থেকে মিটারগেজ বগির চালান আসা শুরু হবে। প্রথম চালানে ২২টি মিটারগেজ বগি আসার কথা রয়েছে। পরের মাসে আসার কথা রয়েছে আরো ২২টি। এভাবে মোট ৯ ধাপে সব বগি আসবে। আর ওসব বগি ট্রেনে যুক্ত হওয়ার পর রেলের সেবা আগের চেয়ে অনেক ভালো হবে। তখন রেলের প্রতি মানুষের আস্থাও আরো বাড়বে।
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সৈয়দ ফারুক আহমেদ জানান, রেলওয়ে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে নতুন করে ২৫০টি অত্যাধুনিক বগি আনা হচ্ছে। তার মধ্যে ২০০টি পূর্বাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ থাকছে। ইওিমধ্যে বেশকিছু বগি এসে পৌঁছেছে। নতুন এসব বগি যুক্ত হলে রেল যোগাযোগ আরো গতিশীল হবে।