সারাবছর জাটকা আহরণ করবেন না মৎস্যজীবীদের জেলা প্রশাসক

2

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন শনিবার করা হয়েছে। র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। আগামীতে এমন দিন আসছে যখন ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশ হবে বাংলাদেশ। তবে তেমন একটি জায়গায় যেতে হলে আপনাদের শিশু সন্তানদের লেখাপড়া করাবেন, প্রতিটি শিশুকে সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেবেন। ঠিক তেমনিভাবে সারাবছরই জাটকা আহরণ করবেন না, জাটকাগুলোকে বড় হবার সুযোগ করে দেবেন। মনে রাখবেন, জাটকা আহরণ করা দ-নীয় অপরাধ। তিনি আরো বলেন, সন্তানদের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেবেন না, বাল্য বিয়ের দু’বছর পরও যদি জানাজানি হয় তাহলেও জেল জরিমানা হবে।
জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, কদিন আগে আমার কাছে একজন অন্ধ মানুষ এসেছিলেন, তিনি জানিয়েছন অন্ধ হবার পরও নদীতে জাল টেনে মাছ ধরেন। তিনি যদি পারেন তাহলে আপনারা কেন পারবেন না। পারতে হবে, নিজের ভাগ্য নিজকেই গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন ‘কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না’। তিনি বলেন, তারপরও অবকাশকালীন আপনারা যেন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পান সে জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখব। এজন্য তিনি মৎস্য কর্মকর্তাকে তালিকা দিতে বলেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আমিমুল এহসান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, মৎস্যজীবী শাহীন আলী ও নাসির উদ্দিন।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি ও আলোচনা সভায় মৎস্যচাষী, ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আমিমুল এহসান জানান, জেলায় বছরে মাছের চাহিদা ২২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এবং উৎপাদন ২৪ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। অপরদিকে গতবছর ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৩৫ মেট্রিক টন। সবমিলিয়ে মাছ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে জাতীয়ভাবে ঠাঁই করে নিয়েছে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ।