আয়ারল্যান্ডের উদ্ধার শেষ ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে

গত বছর অভিষেক টেস্ট খেলার পর দুই দলেরই এটি প্রথম টেস্ট। প্রথম টেস্ট জয়ের বড় সুযোগও। সেই লড়াইয়ে প্রথম দিনে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। পিছিয়ে থাকা আয়ারল্যান্ড গুঁড়িয়ে যেতে পারত, যদি না এগারো নম্বরে নেমে দারুণ এক ফিফটি উপহার দিতে টিম মারটাঘ। ব্যাট হাতে দলকে বিব্রতকর অবস্থা থেকে কিছুটা উদ্ধার করেছেন এই পেসার।
আফগানিস্তানের ঘরের মাঠ ভারতের দেরাদুনে টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে প্রথমবার। প্রথম ইনিংসে আয়ারল্যান্ড গুটিয়ে গেছে ১৭২ রানে। আফগানিস্তান শুক্রবার দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৯০ রানে।
এক পর্যায়ে আয়ারল্যান্ড শঙ্কায় ছিল একশর নীচে গুটিয়ে যাওয়ার। মারটাঘের ইনিংস ও জর্জ ডকরেলের সঙ্গে গড়া দারুণ জুটিতে কিছুটা ভদ্রস্থ হয় আইরিশদের রান।
উইকেটে টার্ন কিছুটা ছিল, তবে ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না। আইরিশরা ব্যাটিংয়ে নেমেছিল টস জিতে।
শুরুটা একদম খারাপও ছিল না তাদের। পল স্টার্লিং খেলছিলেন ওয়ানডের মতো। ৮ ওভারে বিনা উইকেটে রান আসে ৩৭।
৬ চারে ২৬ রান করে স্টার্লিং আউট হওয়া থেকে বিপর্যয়ের শুরু। পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই ও অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবি তুলে নিতে থাকেন একের পর এক উইকেট। লেগ স্পিনার রশিদ খান নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট নেন দুটি। অভিষিক্ত চায়নাম্যান বোলার ওয়াকার সালামখেইলও ধরেন জোড়া শিকার। আয়ারল্যান্ড ৯ উইকেট হারায় ৮৫ রানে।
আটে নামা ডকরেল ও শেষ ব্যাটসম্যান মারটাঘের প্রতিরোধ শুরু সেখান থেকে। আফগানদের হতাশ করে ৮৭ রানের জুটি গড়েন দুজন।
শেষ পর্যন্ত মারটাঘ আউট হননি। ৩৯ রান করে ডকরেল আউট হলে শেষ হয় দলের ইনিংস। ৪টি চার ও ২ ছক্কায় মারটাঘ অপরাজিত থাকেন ৭৫ বলে ৫৪ রান করে।
আফগানিস্তানও শুরুটা খুব ভালো করতে পারেনি। দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও ইহসানউল্লাহ আইরিশদের নতুন বলের দুই বোলারকের পার করে দেন। নিজের সহজাত কিছু শটে কিছু রান বাড়ান শাহজাদ। তবে দুজনকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনা জেমস ক্যামেরন-ডাউ।
দিনের বাকিটা নিরাপদে কাটিয়ে দেন রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ৬০ ওভারে ১৭২ (পোর্টারফিল্ড ৯, স্টার্লিং ২৬, বালবার্নি ৪, ম্যাককলাম ৪, কেভিন ও’ব্রায়েন ১২, পয়েন্টার ০, টমসন ৩, ডকরেল ৩৯, ম্যাকব্রাইন ৩, ক্যামেরন-ডাউ ৯, মারটাঘ ৫৪*; ইয়ামিন ৩/৪১, ওয়াফাদার ০/৩১, নবি ৩/৩৬, রশিদ ২/২০, ওয়াকার ২/৩৫)।
আফগানিস্তান: ৩১ ওভারে ৯০/২ (শাহজাদ ৪০, ইহসানউল্লাহ ৭, রহমত ২২*, শাহিদি ১২*; মারটাঘ ০/৬, ম্যাকব্রাইন ০/৩৮, ক্যামেরন-ডাউ ২/৩৫, টমসন ০/৩, ডকরেল ০/৩)।