প্রয়াসের পিঠা উৎসবে দর্শনার্থীদের ভিড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর ডিগ্রি কলেজে পিঠা উৎসব, বøাডপ্রেসার পরীক্ষা ও রক্তের গ্রæপ নির্ণয় কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির ইউনিট ১০-এর অধীন সমৃদ্ধি-১-এর সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত পিঠা উৎসবে দেখা যায়, সকাল থেকে দিনব্যাপী এ উৎসবে ৫টি স্টলে ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, তেল পিঠা, দুধ পিঠা, পুলি পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি পিঠা ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কথা হয় স্টলমালিকদের সাথে। তারা বলেন, শখের বসে আমরা বাড়িতে পিঠা তৈরি করে এখানে দোকান দিয়েছি। আগে বাড়িতে অতিথি এলে এসব খাবার বানাতাম। এখন আর এগুলো করা হয় না। প্রয়াসকে ধন্যবাদ এরকম একটা উদ্যোগ নেয়ার জন্য। মাঝে মধ্যে এ ধরনের আয়োজন করা হলে আমাদের হারানো ঐতিহ্য বা খাবারকে ধরে রাখতে পারব।  সকাল থেকেই পিঠা উৎসবে বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। বেশ উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তারা স্টলঘুরে দেখেন। কেউ কেউ আবার পিঠা কিনে খাচ্ছেন। একেক পিঠার একেক রকম দাম। পিঠা খেতে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, দাদা-দাদী বা নানাদের বাসাতে গেলে পিঠা খাওয়া হতো। এখন সময়ের ব্যবধানে পিঠা-পুলি খাওয়াও হয় না। এরকম একটা আয়োজনের জন্য প্রয়াসকে ধন্যবাদ জানাই।
আরেক দর্শনার্থী জানান, এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মও জানতে পারছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যকে। কেউ কেউ আবার পিঠা বানানোর নিয়মাবলি জেনে নিচ্ছেন।
মেলায় প্রয়াসের একটি মেডিকেল বুথও করা হয়েছে, যেখানে বøাড প্রেসার এবং ওজন মাপা হচ্ছে। রক্তের গ্রæপও পরীক্ষা করতে পারছেন দর্শনার্থীরা। প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মু.তাকিউর রহমান পিঠা উৎসব বিষয়ে বলেন, একসময় গ্রামের মানুষজন বিভিন্ন জাতের পিঠা তৈরি করত। কিন্তু বর্তমানে ধীরে ধীরে এসব হারিয়ে যেতে বসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লক্ষ্যেই এ পিঠা উৎসবের আয়োজন।
উৎসবের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক গৌড় বাংলা ও রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফ.এম।