শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

4

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতরা এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত আসনের ৪৯ জন সংসদ সদস্যকে শপথ পড়ান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আইম গোলাম কিবরিয়া। প্রথমে আওয়ামী লীগ, শরিক দল ও স্বতন্ত্র এবং পরে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত সদস্যরা শপথ নেন। শপথ শেষে নতুন আইন প্রণেতারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় চা চক্রে অংশ নেন। নতুন সংসদ সদস্যরা পরে সচিবের অফিসে গিয়ে তালিকা বইয়ে সই করেন এবং লবিতে গিয়ে পরিচয়পত্রে জন্য আঙুলের ছাপ দেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীসহ সংসদের হুইপরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় রোববার আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির ৪ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ১ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জনকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিাটর্নিং কর্মকর্তা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে বিএনপির একটি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী তাদের ছয় প্রার্থী এখনও শপথ নেননি। ফলে আনুপাতিক হারে তাদের যে সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার কথা, সেটি স্থগিত রয়েছে। বাকি ৪৯ আসনের একক প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে রোববার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
আওয়ামী লীগের ৪৩ জন এমপি হলেন, ঢাকা থেকে সুবর্ণা মুস্তাফা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা ও নাহিদ ইজহার খান; চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম; কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তী চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী; বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে হোসনে আরা, নেত্রকোণা থেকে হাবিবা রহমান খান (শেফালী) ও জাকিয়া পারভীন খানম; পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক, সুনামগঞ্জ থেকে শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলীম, নরসিংদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, টাঙ্গাইল থেকে খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম (সাকী), ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুর থেকে পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমিনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রতœা আহমেদ। অন্যরা হলেন, জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম, মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার। ওয়াকার্স পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নারী আসনে এমপি নির্বাচিত সেলিনা ইসলাম লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের স্ত্রী।