দেশের সব হাসপাতালের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

4

দেশের সব হাসপাতালের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকা- নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানাতে গতকাল শুক্রবার গুলশানে নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা। এটা ওয়েক আপ কল। আমাদের অনেক হাসপাতাল পুরানো হয়ে গেছে। আমাদের ফায়ার ফাইটিং যে সিস্টেম আছে সেগুলোর আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে বৈদ্যুতিক যে তার বা যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলোকে চেক করা দরকার। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১২ শ রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্য হাসপাতালে। তিন ঘণ্টার চেষ্টায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ওই আগুন নেভায়। হাসপাতালের পরিচালক উত্তম বড়ুয়া জানিয়েছেন, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। এ ঘটনার তদন্তে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি গতকাল শুক্রবার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম রাত থেকেই আবার শুরু হয়েছে। ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি আবার চালু করা হয়েছে, সেখানে রোগীদের চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। যেসব ওয়ার্ড ও কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো শিগগিরই মেরামত করা হবে এবং ক্ষয়ক্ষতি কতটুকু হয়েছে তাও নিরুপণ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, অগ্নিকা-ের ১২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রোগীরা নিজেদের জায়গায় ফিরতে শুরু করেন। হাসপাতালের ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটি ওয়ার্ডে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে।

তবে শিশু ওয়ার্ড ও গাইনি ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালের ওষুধ থেকে শুরু করে হুইলচেয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্র এ সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার খাতা ও নথিসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও পুড়ে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অনেক রোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় তাঁদের প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে শুক্রবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে হাসপাতালটি। অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা রোগীদের অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ৯ নম্বর গাইনি ও শিশু ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই ওয়ার্ডের রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন গাইনি রোগী ভর্তি করানো হলেও ওয়ার্ডের অভাবে নতুন কোনো শিশু রোগীকে ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেছেন, সবার ছুটি আমরা কর্তন করে দিয়েছি। এবং আজকে আমরা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। আপাতত আমরা কোনো শিশু রোগীকে ভর্তি করাতে পারব না। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ বলেন, শিশু ওয়ার্ডে আমাদের একটা ইলেকট্রিকের ভয়েডের মতো আছে, খুব সম্ভবত ওখান থেকেই আগুন লেখেছে, তবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।