আবেগী মনের সাড়া

ডা. আকন্দ মো. রফিকুল ইসলাম

বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষ্যে ভালবাসার মানুষকে দেয়া ‘‘কথিকা” উপহার শেয়ার করলাম। আমার সহধর্মীনী মিসেস সানোয়ারা বেগম (লতা)’র নিকট আমি স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশীই কৃতজ্ঞ। তার কারণ, আমারও আমার পরিবারের দেখ-ভালও উন্নতি নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি তাঁর ব্যক্তি-এর কথা ভাবেননি বা ভিন্নভাবে ভেবেছেন। ফলে উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও প্রবীণ শ্বাশুরীকে সেবা করা, সন্তানদ্বয় কে সময় দিয়ে মানুষ করা, স্বামীর উন্নতি (এমফিল, পিএইচডি, চাকুরীতে উন্নতি) নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনিই রয়ে গেলেন। তাঁর বিশেষ তদারকীতে আমি পরীক্ষায় ১ম শ্রেণী লাভ করি এবং তিনি নিজে পরীক্ষায় ১ম শ্রেণী লাভ করেন (সাধারণত: বিয়ের পরে রেজাল্ট খারাপ হয়: আমাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)। মেধাবী বৌ যাঁর সমস্ত সময় দিয়ে ঘর সামলায় তার ঘর সুখময় না হয়ে যায় কোথায়? সুখ অবশ্য আপেক্ষিক, এক এক জনের নিকট সুখের সঙ্গা এক এক রকম। আমার স্ত্রী মনে করেন তিনি সুখী, তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে, তিনি কখনও আলস্য সময় কাটাননি বরং সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন [যেমন- সন্তান পরিপালন, সন্তানদেরকে নিজে পড়ানো, সংসার মেহমানদারী সামলিয়ে স্বামীকে নির্বিঘ্নে পড়তে/ কাজ করতে দেয়া, প্রবীণ শ্বাশুরীকে ২০ বছর ধরে সেবা করা (শ্বাশুরী বছর পাঁচেক অধিক অসুস্থ ছিলেন)]। তাঁর ভিন্ন/ বৈরী পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা অসাধারণ। তিনি দূরবর্তী অঞ্চলের (ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার) মেয়ে হয়েও আমাদের পরিবার ও গ্রামের (বরিশালের) সকলের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে সময় না দিয়ে পিএইএচডি গবেষণায় সময় দেয়ার মত অপরাধ তিনি অবলীলায় ক্ষমা করে মহত্বের পরিচয় দেয়ায় আমার পিএইএচডি গবেষনাপত্র (Dissertation) টির উৎসর্গ অংশে আমি লিখেছি “DEDICATED TO MY PARENTS AND SPOUSE” ।  এতে ভাইভা বোর্ডে আমাকে প্রশ্ন করা হয় যে, ‘‘এ ব্যাতিক্রমিক উৎসর্গ কেন?” যার উত্তরে আমি বলেছি, ‘‘ একদিকে আমার SPOUSE তাঁর মূল্যবান সময় আমাকে দান করায় আমি এ ডিগ্রীটি নিতে পেরেছি , সেছাড়া, যে মাস বার চেয়ে দামী এবং যাঁর নিকট আমরা সবচেয়ে বেশী কৃতজ্ঞ তাঁকে যিনি ২০ বছর ধরে সেবা করেছেন সেই ব্যক্তি কে আমি কি করে মূল্যায়ন না করি? আমার ধারণা, এতে আমার মায়ের আত্মাও শান্তি পেয়েছে (মাকে আল্লাহ বেহেস্ত নসীব করুন)। যাহোক, আমাদের বৈবাহিক জীবনের বয়স ২৭ বছর। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন বিশেষত: আমার স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন যাতে তিনি সার্বিকভাবে ভাল থাকেন এবং তাঁর মনের আশা মোতাবেক তাঁর স্বামী-সন্তান-এর উন্নতি অব্যাহত থাকে। শ্বাশুরী, স্বামী, সন্তানদের সংগে তোলা তাঁর কিছু স্মৃতিময় ছবি সংযুক্ত করলাম।

লেখক: জেনারেল ম্যানেজার (প্রোগ্রাম), পিকেএসএফ এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী (পিসি), পীস প্রকল্প