শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে ই-মিউটেশন সেবা : আস্থা ফিরছে সেবাগ্রহীতাদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিস সব ধরনের জনদুর্ভোগ ও দুর্নীতি রোধ করে জনগণের আস্থা ফেরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমান শিবগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) চেষ্টা করছেন ভুমি অফিসটি জনবান্ধব করার। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে ই-মিউটেশন সিস্টেম অর্থাৎ ই-নামজারি পদ্ধতি।
বাস্তবতা দেখতে বুধবার সকালে ভূমি অফিস সরেজমিনকালে দেখা গেছে বর্তমানে অফিসটিতে আর আগের মতো সেবাগ্রহীতাদের ভীড় নেই, পড়ে নেই কোনো ফাইল। বুধবার আগত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা আর এ অফিসে আগের মত অনিয়ম বা হয়াণির শিকার হচ্ছেন না।

কার্যালয়টির কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী জানান, বর্তমান সহকারী কমিশনারের কঠোর নির্দেশে অফিসটির স্বচ্ছতা আনতে তারাও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সারাদিন স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে জনসাধারনের আস্থা অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তারা আরও জানান, ভুমি অফিসে এখন আগের মত জমি খারিজ বা নামজারীর জন্য অফিসে ধর্ণা দিতে হচ্ছে না। তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ই-মিউটেশন সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষ এখন ঘরে বসেই নামজারীর জন্য আবেদন করতে পারছে। আবেদনের পর নির্দিষ্ট দিনে নামজারীর কাজ শেষ হচ্ছে। সাথেসাথে অতিরিক্ত কোন খরচ হচ্ছে না। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে জমি নামজারীর ক্ষেত্রে কোন জাল দলিলের ভিত্তিতে জমি নামজারী হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে প্রতিমাসে ৫শ টি করে দলিল নামজারী করা হচ্ছে। গত এক বছরে প্রায় ৬ হাজার দলিল নামজারী করা হয়েছে। অফিসের সামনে সিটিজেন চ্যাটারে বিভিন্ন সর্তকর্তামূলক তথ্য ও নির্দেশনা লেখা আছে। সেখান থেকে সেবা গ্রহিতারা ভুমি অফিসে খাজনা দেয়া,পর্চা উঠানো,রেকর্ড সংশোধন,জমি সর্ম্পকীয় যাবতীয় মামলার নিয়ম কানুন, সময়,খরচসহ যাবতীয় নিয়মকানুন জানতে পারবেন। প্রয়োজনে সহায়তা ডেক্স থেকেও গ্রাহকরা সেবা নিতে পারবেন। সেবাগ্রহিতারা আর অফিসে সময় ও অর্থ খরচ না করে সিটিজেন চ্যাটার দেখে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন।
এদিকে শিবগঞ্জ ভ’মি অফিসে ভুমি রের্কড ব্যবস্থায় আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। এর অংশ হিসেবে উপজেলার সমস্ত জমিকে মৌজা অনুযায়ী দাগ নং, খতিয়ান নং, জে এল নং, জমির অবস্থানসহ যাবতীয় তথ্যবলী সুবিন্যাস্তভাবে আলাদাভাবে সাজিয়ে কম্পিউটারে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ইউনিয়ন ও পৌরসভা অনুযায়ী সূচিপত্র তৈরী করে ভলিউম আকারে খতিয়ানগুলি বাঁধাই করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর ফলে যে কোন ব্যক্তি শুধু দাগ ও মৌজা নং নিয়ে আসলে জমির যাবতীয় তথ্য এক মিনিটেই জানতে পারবেন।
কোর্ট ফি জালিয়াতির বিষয়টি জানতে চাইলে ভ’মি অফিস জানায়, আগে কোর্ট ফি জালিয়াতি হওয়ায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি জনগণ বা সেবা গ্রহীতারা হয়রাণির শিকার হতো। কিন্তু বর্তমানে লেজার মেশিন দ্বারা কোর্ট ফি পরীক্ষা করে আসল-নকল পরীক্ষা করায় এ দুনীর্তিও বন্ধ হয়েছে। এক্ষেত্রে অফিসের সামনেই সততা স্টোরের মাধ্যমে কোর্ট ফির মূল্য পরিশোধ করে যে কোন আবেদন করতে পারবেন।
সেসাথে বাড়তি সুবিধা হিসেবে সেবাগ্রহিতা কোন ধরনের হয়রাণির শিকার হলে তিনি সরাসরি অভিযোগ বক্্ের অভিযোগ করতে বা সহকারী কমিশনারকে জানাতে পারবেন।
এ ব্যাপারে সেবা গ্রহীতা শিবগঞ্জ চকদৌলতপুর গ্রামের আরিফ আলী জানান, তিনি এর আগে নামজারী করতে এসে একদিকে হয়রাণী অন্যদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার পরও ২মাস পর্যন্ত সময় লেগেছে তার নামজারী করতে। কিন্তু ডিজিটাল সেবা চালু হবার পর তিনি নির্দিষ্ট ফি জমার মাধমে মাত্র ১ মাসে কোন হয়রাণি ছাড়াই বুধবার তার নামজারি সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
একই সুরে কথা বলেন শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন-তার একটি মিসকেস ছিল যা মাত্র ১ সপ্তাহেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার(ভুমি) মো. বরমান হোসেন বলেন, শিবগঞ্জে যোগদানের পর মানুষের হয়রাণী আমাকে ব্যথিত করে। আর এ অপরাধ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে আমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে জনগণের আস্থা ফেরাতে কাজ শুরু করি। মিসকেস প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগে কয়েকশ মিসকেস পেনডিং থাকলেও তিনি গত মাসে ২০ টি এবং চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৪ টি মিসকেসের সমাধান করায় বর্তমানে কোন মিসকেস পেনডিং নেই। তিনি এ ভূমি অফিসকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য গণমাধ্যম কর্মীসহ সচেতন ব্যক্তিদের সহায়তা কামনা করেন। তিনি আরো জানান, সরকার জনগণের সেবক আর সরকারের অংশ হিসাবে জনগণের সেবা শতভাগ নিশ্চিত করবে শিবগঞ্জ ভূমি অফিস।