মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক ব্যাটিংয়ে উজ্জ্বল

টিকতেই পারলেন না লিটন দাস, সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন। ছন্দে থাকা মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম পেলেন ফিফটি। রানে ফেরার আভাস দিলেন সাব্বির রহমান। তাতে আড়াইশ রানের কাছে গেল সংগ্রহ। সেই পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে পারলেও নিউ জিল্যান্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ।
একমাত্র ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচে নিউ জিল্যান্ড একাদশের কাছে ২ উইকেটে হেরেছে সফরকারীরা। ২৪৮ রানের লক্ষ্য ১১ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
লিংকনের বার্ট সাটক্লিফ ওভালে রোববার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৮ ওভারে ৩১ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে চার উইকেট। চার ব্যাটসম্যানই ফিরেন বাজে শটে।
ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন লিটন। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুমিনুল হক। অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে কাভারে সহজ ক্যাচ দেন সৌম্য। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন মিঠুন। তাদের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
অনেক বিপদের ত্রাতা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে অভিজ্ঞ দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান উপহার দেন ১০৮ রানের জুটি।
অফ স্টাম্পের বাইরের বলে মুশফিক থার্ড ম্যানে ক্যাচে দিলে ভাঙে জুটি। কিপার ব্যাটসম্যান ফিরে যান ৮ চারে ৬১ বলে ৬২ রান করে। বেরিয়ে এসে বোলারের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ। ৮৮ বলে খেলা তার ৭২ রানের ইনিংস গড়া ১০টি চারে।
মাশরাফি বিন মুর্তজার অনপুস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ টিকেননি বেশিক্ষণ। সাব্বির ৬ চারে ফিরেন ৪১ বলে ৪০ রান করে। এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যাট থেকে আসে বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কা।
সফরকারীরা খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৩ বল বাকি থাকতে।
৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ড একাদশের সেরা বোলার ইয়ান ম্যাকপিক।
রান তাড়ায় অ্যান্ড্রু ফ্লেচারের সঙ্গে শতরানের উদ্বোধনী জুটিতে স্বাগতিকদের দারুণ সূচনা এনে দেন অধিনায়ক জিত রাভাল। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান নাঈম হাসানকে সুইপ করতে গিয়ে মুশফিককে ক্যাচ দিলে ভাঙে ১১৪ রানের জুটি। ৬৩ বলে খেলা রাভালের ৫২ রানের ইনিংস গড়া ৫টি চারে।
তৃতীয় উইকেটে রাচিন রবিন্দ্রর সঙ্গে ৫০ রানের জুটিতে দলকে সহজ জয়ের পথে রেখেছিলেন ফ্লেচার। সেঞ্চুরির আশা জাগানো ডানহাতি ওপেনারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজ। ৯ চারে ১১২ বলে ৯২ রান করে ফিরেন ফ্লেচার।
১৮২ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেব তার বিদায়ের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তবে শেষরক্ষা করতে পারেননি তারা। শেষটায় তালগোল পাকালেও জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
মুস্তাফিজ, মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। তাসকিন আহমেদের চোটে দলে আসা শফিউল ইসলাম ৫ ওভারে ৪০ রান দিয়ে থাকেন উইকেটশূন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৪৬.১ ওভারে ২৪৭ (লিটন ৩, মুমিনুল ৬, সৌম্য ১, মুশফিক ৬২, মিঠুন ১, মাহমুদউল্লাহ ৭২, সাব্বির ৪০, মিরাজ ৭, নাঈম ১৭*, শফিউল ৪, মুস্তাফিজ ১২; হ্যাজেলডাইন ২/৪৬, ম্যাকপিক ৪/৩৮, ব্রাউন ১/৫৭, সোলিয়া ১/৩২, ফন ভারকম ০/৩৯, রবিন্দ্র ২/৩৪)
নিউ জিল্যান্ড একাদশ: ৪৮.১ ওভারে ২৫১/৮ (রাভাল ৫২, ফ্লেচার ৯২, সোলিয়া ১১, রবিন্দ্র ১৭, অ্যালেন ৩০, ক্লার্ক ১৯, ফিলিপস ৪, চু ৭*, ফন ভারকম ০, হ্যাজেলডাইন ২*; শফিউল ০/৪০, মুস্তফিজ ২/৩৩, মিরাজ ২/৪৬, নাঈম ১/৪৩, মাহমুদউল্লাহ ২/৩৭, মুমিনুল ০/৯, সাব্বির ০/১১, সৌম্য ১/২৮)
ফল: নিউ জিল্যান্ড একাদশ ২ উইকেটে জয়ী