ঘণ্টায় ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহনে বিমানবন্দর হতে ঝিলমিল পর্যন্ত ২২ কি.মি. সড়কের নকশা প্রণয়ন

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লাইন-৩ নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যেখানে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হলেই যানজট কমে আসবে ওই অংশে এবং এই সড়কটির উভয় পাশ ধরে ঘন্টায় প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

১৬ টি স্টেশন বিশিষ্ট ২২ কি.মি. দীর্ঘ বিআরটি লাইন-৩ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কেরাণীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সওজ বিভাগের সূত্র। জানা যায়, সরকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে এ প্রকল্পের প্রথম ধাপের অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেছে। আর বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে তহবিল দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নগরীর যানজট নিরসনে কেরাণীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত ২২ কি.মি. দীর্ঘ বিআরটি  লাইন-৩ নির্মাণের বিস্তারিত প্রকৌশল নকশা (ডিইডি) প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এর নির্মাণের কাজ শেষ হলেই সড়কের উভয় পাশে ঘণ্টায় ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।

মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি তিন পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। দ্বিতীয় ধাপে মহাখালী থেকে গুলশান এবং তৃতীয় ধাপে গুলশান থেকে বুড়িগঙ্গার ওপর দিয়ে কেরাণীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন বিআরটির সঙ্গে বিআরটি লাইন-৩ এর আন্তঃসংযোগ সুবিধা থাকবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গাজীপুর থেকে ঝিলমিল যাতায়াত করতে পারবেন।

এ সড়কে ২৫ টি স্টেশন, ৬ টি ফ্লাইওভার, উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার এলিভেটেড বিআরটি লেন ও ১৬ কি.মি. ফ্ল্যাট গ্রেড থাকবে। এ সড়কে ১০ টি ১৮ মিটার দীর্ঘ আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে। যেখানে ভাড়া আদায়ের জন্য থাকবে ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট কার্ড সিস্টেম।

সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে মাত্র ৫০ মিনিটে গাজীপুর ও বিমানবন্দরের মধ্যে আসা-যাওয়া করা যাবে। প্রতি দুই থেকে পাঁচ মিনিটে একটি বাস চলবে। প্রতি ঘণ্টায় সড়কের উভয় পাশে ২৫ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে।