ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : অর্থমন্ত্রী

ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশকে এ দু’টি অপরাধ থেকে মুক্ত করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করছি। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর গাউছুল আজম মসজিদ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের নবীজি ঘুষ-দুর্নীতি পছন্দ করতেন না। আমাদের সবার উচিত প্রিয় নবীর পথ অনুসরণ করা। ঘুষ দিলেই জাহান্নামে যেতে হবে। দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো কাজ দু’দিন দেরি হলেও আমরা ঘুষ দেবো না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যাকাত দেওয়ার বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, উপযুক্তদের সবাইকে যাকাত দিতে হবে। এটা ইনকাম ট্যাক্সের আওতার বাইরে। যাকাত গরিবের হক।

বাবা-মার প্রতি হক আদায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটা করলে সারা পৃথিবী বেহেশতে পরিণত হবে। মারামারি করা যাবে না। মানুষকে নামাজে অকৃষ্ট করতে হবে। নিজে নামাজ পড়তে হবে এবং অন্যান্যের আহ্বান জানাতে হবে। দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করুন। আপনারা যেখানেই কথা বলবেন সবাইকে দুর্নীতি থেকে বিরত থাকতে বলবেন। সবাইকে শপথ করান যে তারা যেন আর দুর্নীতি না করে। আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এই বাংলাদেশ আগের বাংলাদেশ নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। মানুষের কাছে দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য আপনারা তুলে ধরুন। মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের পেশাজীবি সংগঠন বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদার্রেছীন আয়োজিত সংবর্ধনা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখে থাকি আপনারা রোজার সময় ফিতরা দেওয়ার জন্য মানুষদেকে বলেন, আমরা চাইব এখন থেকে আপনারা একইভাবে যাকাত দেওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন।

এই সংগঠনের মাধ্যমে যাকাত কিভাবে সুন্দর ভাবে হিসাব করে বের করতে হয় সে বিষয়ে আপনারা সাধারণ মানুষকে সাহায্য করবেন। মুস্তফা কামাল বলেন, পবিত্র কোরানের ৩১টি জায়গায় যাকাত সম্পর্কে বলা আছে, এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশ যত এগিয়ে যাবে ধনী মানুষ বাড়বে। ধনী গরিবের বৈষম্য বাড়তে পারে। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে এই বৈষম্য কিন্তু কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, হজ অব্যবস্থাপনা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ নিয়ে কেউ দুর্নীতি করলে তাকেও ছাড় নয়। হজে যাওয়ার আগে অনেকের চোখে পানি ঝরে নানা কারণে। হজে দুর্নীতির কারণে আর কারোর চোখে পানি ঝরতে দেবো না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন। এসময় তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ডাকে আমাদের সর্বাত্মক সাড়া দিতে হবে। এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য বজলুল হারুন ও দেশের মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী-পেশাজীবীরা। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে স্বতস্ফূর্তভাবে অভিনন্দন জানানো হয়।