ক্যান্সারগ্রস্ত রাহেলার দিন কাটে কষ্টে

<বিপাশা রবি দাস>

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উপরাজরামপুর গ্রামের ৫৯ বছর বয়সী রাহেলা বেগম। প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্বামী তাকে তালাক দেন। তার পর থেকে স্কুল ঝাড়ু দিয়ে, পাতা কুড়িয়ে যে টাকা পান তা দিয়ে সংসার চলত একা রাহেলা বেগমের। এখন তিনি ক্যান্সর রোগে আক্রান্ত। কোনো কাজ ঠিক মতো করতে পারেন না। কোনো ধরনের সরকারি ভাতা বা সুবিধাও পান নি তিনি। রাহেলা বেগম আরও বলেন,‘জরায়ুতে টিউমার হয়েছিল। তার পর অপারেশন করি। গত ৫ মাস আগে পরীক্ষা করতে দেয়া হয়। এটা পরীক্ষা করার এক মাস পরে ক্যান্সার ধরা পরে। দুবার কেমো দিয়েছি এবং এবার ৪ বার হয়ে যেত কিন্তু ডায়াবেটিসের জন্য দেওয়া হয় নি। আবার ডেকেছে। এখন আবার কারো কাছে টাকা ধার নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব।
রাহেলা বেগম বলেন-একটা মাত্র মেয়ে আছে, সে মেয়েই এখন আমার দেখাশোনা করে। আমার পরিবারে রোজকারের কেউ নেই। রাহেলার মেয়ের চার ছেলে মেয়েসহ ৭ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন জামাই খাইরুল ইসলাম। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি সাধ্যমতো শ্বাশুড়ির চিকিৎসার খরচও চালাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে মায়ের চিকিৎসা চলছে বলে জানালেন মেয়ে মরিয়ম ও প্রতিবেশী সখিনা বেগম। মেয়ে মরিয়ম বলেন, ‘আমার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ওতো পরের ছেলে ইচ্ছে করলে দিবে না হলে না দেবে। আর রাজমিস্ত্রির কাজ করে চিকিৎসার খরচ চালানো কী সম্ভব ? এখন আমরা মায়ের বাড়িতে আছি। তাই আমরা মায়ের দেখাশোনা করতে পারছি। কিন্তু যদি আমার স্বামী ভাড়া বাড়িতে চলে যায় তাহলে মাকে দেখার মতো আর কোনো উপায় থাকবে না আমার।’
প্রতিবেশি সখিনা বেগম বলেন, ‘রাহেলার স্বামী তো ওকে অনেক দিন আগে ছেড়ে দিয়েছে। সে একা তার মেয়েকে নিয়ে এতো দিন কাজ করে চলল। কিন্তু এখন তো অসুখ, এখনতো আর কাজ করতে পরেনা। ওকে দেখার মতো মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই। মানুষের কাছে টাকা ধার করে নিয়ে তার পরে ডাক্তর দেখায়। পরে খেয়ে নাখেয়ে ধার শোধ করে।’
এবিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে উপপরিচালক নূর মোহাম্মদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ক্যান্সারগ্রস্তদেরকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ অনুযায়ি ভাতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উল্লেখ্য, যখন কোন কারনে মানবদেহের কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভবে বিভাজিত হয় তখন ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। চিকিৎসা শাস্ত্রে একে বলে টিাউমার। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। এরোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছর থেকে চালু করে দরিদ্র ক্যান্সাররোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। এই রোগীদের এককালীন চিকিৎসার খরচ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম