স্কুল শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের উদ্যোগ : রহনপুরে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবে মানুষের ঢল

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রহনপুরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পৌষ মাসে পিঠা-পুলির উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুল শিক্ষিকা মমতাজের উদ্যোগে শুক্রবার দিনব্যাপী রহনপুর পৌর এলাকার বাবুরঘোন মহল্লায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরের মতো গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণির ছেলে মেয়েরা শিক্ষিকা মমতাজের উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করেন।
গ্রাম-বাংলার এ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য উত্তর রহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক মমতাজ বেগম প্রতিবছর এ আয়োজন করেন। এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষিককে এ উৎসবে অংশ নেয়ার জন্য প্রতিবছর তারা তিন কেজি করে ধান দিয়ে থাকেন। প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী উৎসাহী হয়ে এ পিঠা উৎসবে অংশ নেন,এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। বাবুরঘোন মহল্লাটিতে নবান্ন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
দেখা গেছে, লাল-হলুদ রংয়ের শাড়ি, তাজা ফুলের মালা পরে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল বয়সের নারী-পুরুষ সারাদিন পিঠা তৈরি ও নাচে-গানে মেতে উঠেন। গ্রাম-বাংলার ঢেঁকি ও যাঁতার শব্দে দিনটিতে একটি অন্যরকম মাত্রা যোগ করে। ছেলে-মেয়েদের সংগ্রহ করা ধান থেকে ঢেঁকি ছাঁটা চাল যাঁতায় পিসে তৈরি করা আটা দিয়ে হরেক রকমের পিঠা-পুলি খেতে এসেছেন উৎসুক জনসাধারণ। আবার প্যাকেট করে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বাসায় পৌঁছে দেয়াও হয় এ পিঠা। পিঠা খেতে আসা উৎসুক অতিথিদের গ্রাম-বাংলার সংগীত গেয়ে আনন্দ দেয় ওই ছাত্র-ছাত্রীরা। গ্রামের এ ঐতিহ্যকে উৎসাহ যোগাতে ছুটে এসেছিলেন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।
শিক্ষিক মমতাজ বেগম জানান, তার নানা-নানীরা বহুযুগ ধরে বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি বানিয়ে গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণীদের দাওয়াত করে খাওয়াতেন। সেই ভাবনা থেকেই এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিবছর গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এ উৎসবটি উদ্যাপন করে আসছেন। তাকে এ কাজে সহযোগিতা ও উৎসাহ যোগিয়ে আসছেন তার বড়বোন কলেজ শিক্ষিক শামিমা আখতার ও এলাকার কৃষাণিরা।
বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মো. হাবিবুল্লাহ, রহনপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদ হাসান মুক্তা ও ১,২,৩ মহিলা কাউন্সিলরবৃন্দ, প্রভাষক আকতারুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম, শিক্ষক সাদিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে স্থানীয় শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গম্ভীরা পরিবেশন করেন।