সরিষা ক্ষেতে প্রয়াসের মৌ-চাষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী গোদাগাড়ী উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষ করে লাভবান হচ্ছেন সরিষা চাষিসহ মৌ-চাষিরা। মৌ-চাষের ফলে প্রতিবিঘায় সরিষার ফলন দেড় থেকে ২ মণ বেশি পাওয়া যায় বলে কৃষি অফিস জানায়।
কদিন আগেও বিস্তীর্ণ সরিষার মাঠজুড়ে হলুদ রং দৃশ্যমান ছিল। কোনো কোনো মাঠে এমন দৃশ্য এখনও চোখে পড়ে। বেশ কয়েক বছর থেকে এমন সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষ করা হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগের বাইরে চাঁপইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানিবক উন্নয়ন সোসাইটি বাণিজ্যিকভাবে মৌ-চাষ করছে গত ১০ বছর ধরে। প্রয়াসের চাষ করা মধু খাঁটি বলে জানিয়েছেন গোদাগাড়ীর এক কৃষি কর্মকর্তা।
প্রয়াস এপিকালচার প্রকল্পের টিম লিডার মজিবুর রহমান জানান, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ২০০৮ সালে ৪৫টি মৌ-বাক্সে ১ হাজার কেজি মধু উৎপাদন শুরু করে। ২০১৮ সালে এসে ৭৭টি মৌ-বাক্সে মধু উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৮২০ কেজি। এবার গোদাগাড়ী উপজেলার কাপাসিয়া এলাকায় সরিষা ক্ষেতে মৌ-বাক্স স্থাপন করে এখন পর্যন্ত মধু উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার কেজি এবং আরও মধু উৎপাদন হবে। এখনও ৫৭টি মৌ-বাক্স ক্ষেত্রেই রয়েছে।
তিনি আরো জানান, কালোজিরার ফুল শেষে লিচু ফুলের মধু উৎপাদন এর জন্য লিচু বাগানে মৌ-বাক্স স্থানান্তর করা হবে। এভাবেই প্রয়াস মধু নিজস্ব মৌ খামারে উৎপাদন করে সংরক্ষণ করে রাখে। তারপর পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়াজাত করণ, প্যাকেট করে প্রয়াস মধু নামে বাজারজাত করা হয়। সরিষা ফুলের, লিচু ফুলের ও কালজিরা ফুলের মধু পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ ও ঢাকায় প্রয়াস মধু পাওয়া যায়। তবে প্রয়াস মধু বাংলাদেশ ছাড়াও বিদেশেও যাচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউল ইসলাম বলেন-“আমি সরিষা ক্ষেতে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মৌ-চাষ দেখেছি এবং গত বছরের সংগৃহীত মধু খেয়েছি, এ মধু অত্যন্ত খাঁটি।
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন বলেন-কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান অন্যতম। এদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ২০০৭ সালে প্রয়াস এপিকালচার প্রোগ্রাম নামে একটি কর্মসূচি চালু করে। দক্ষ কর্মী দ্বারা মৌমাছি পালন, রক্ষণাবেক্ষণ, মধু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এবং মৌ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকার সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে এবার জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় ৮৩ হাজার ২৩০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮ হাজার ২শ বিঘা, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৫শ বিঘা, গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৪ হাজার ১৪০ বিঘা, নাচোল উপজেলায় ২২ হাজার ৪৭০ বিঘা ও ভোলাহাট উপজেলায় ৩ হাজার ৯২০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ হয়। সরিষার জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে টরি-৭, ১৪, ১৫ ও ১৭ এবং বিনা সরিষা ৪। এ-ছাড়াও অল্প পরিমাণ স্থানীয় জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা বলেন-এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু জমির সরিষা চাষিরা কর্তন করা শুরু করেছে এবং এখনও অনেক ক্ষেতে সরিষা গাছে ফুল রয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।
সরিষার জমিতে মৌ-চাষ করলে প্রতিবিঘায় প্রায় দেড় মণ সরিষা বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং মৌ-চাষিরাও লাভবান হয়। এবার গোমস্তাপুরের মৌ-চাষি মনিরুল ইসলাম বেশ ভালো মধু সংগ্রহ করে দামও ভালো পেয়েছে বলে তিনি জানান।