ঢাকা ডায়নামাইটসের বড় স্কোরে পিষ্ট খুলনা

হজরতউল্লাহ জাজাই আবার তুলোধোনা করলেন বোলারদের। সুনিল নারাইনের সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটিতে উঠল ঝড়। ঢাকা ডায়নামাইটসের বড় স্কোরে আবারও পিষ্ট প্রতিপক্ষ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। খুলনা টাইটানসকে হারিয়েছে তারা ১০৫ রানে। বিপিএলে এটি ঢাকা ফ্রাঞ্চাইজির সবচেয়ে বড় জয়, সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সেরা সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। এবার প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ঢাকা জিতেছিল ৮৩ রানে। দিনের প্রথম ম্যাচটিতে এবারের বিপিএলের প্রথম দুই দিনে দেখা গেছে রান খরা। ঢাকা সেখানে ব্যতিক্রম। মিরপুরে মঙ্গলবার শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে তোলে তারা ৬ উইকেটে ১৯২ রান। খুলনা ধুঁকতে ধুঁকতে থমকে যায় ৮৭ রানে।
আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন এ দিন শুরু করেন জাজাই। প্রথম ওভারে আলি খানকে বাউন্ডারিতে শুরু। দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলামকে স্বাগত জানান বিশাল ছক্কায়। ওই ওভারেই সুযোগ দিয়েছিলেন জাজাই। কিন্তু মিড অনে ক্যাচটি নিতে পারেননি ডেভিড ভিসা। ১২ রানে জীবন পেয়ে আরও অপ্রতিরোধ্য হয় ওঠেন আফগান ওপেনার। ঝড়টা বেশি যায় ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার শরিফুলের ওপর দিয়ে। তার এক ওভারেই তিন ছক্কা, দুটি চার মারেন জাজাই।
আরেক পাশে সুনিল নারাইনও ছিলেন আগ্রাসী। আমেরিকান পেসার আলি খানের এক ওভারে মারেন চার ও ছক্কা। ৫ ওভারেই ঢাকা তোলে ৬৭ রান। দুই বাঁহাতির ব্যাট উত্তাল হলেও বিস্ময়করভাবে খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিজেকে কিংবা আরেক অফ স্পিনার পল স্টার্লিংকে তখন আনেননি বোলিংয়ে।
১৪ বলে ২৯ রান করা নারাইনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ভিসা। তবে তিনে নেমে রানের গতি ধরে রাখেন রনি তালুকদার।
খুলনা নিজেদের দোষে ভুগেছে এখানেও। ১০ রানে রনির ক্যাচ নিতে গিয়ে ছক্কা বানিয়ে দেন স্টার্লিং। ৮.৫ ওভারে ঢাকা স্পর্শ করে ১০০ রান।
পরে সেই মাহমুদউল্লাহ ও স্টার্লিং বোলিংয়ে এসেই রাশ টেনে ধরেন একটু। ১৮ বলে ২৮ রান করা রনিকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ। নিজের একমাত্র ওভারে স্টার্লিং পরপর দুই বলে আউট করেন জাজাই ও সাকিব আল হাসানকে।
আগের ম্যাচে ২২ বলে ফিফটির পর এবার ২৫ বলে ফিফটি করেন জাজাই। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৫ ছক্কায় ৩৬ বলে ৫৭ রান করে। দ্রুত কয়েকটি উইকেটে মাঝে একটু কমে যায় দলের রান। কিন্তু কাইরন পোলার্ড ও আন্দ্রে রাসেল উইকেটে গিয়ে নতুন দম দেন আবার। দুই ক্যারিবিয়ানের জুটিতে পঞ্চাশ আসে ৩১ বলেই। ৩ ছক্কায় রাসেল করেন ২৫ রান। পোলার্ডের ব্যাটে ১৬ বলে আসে ২৭। আগের ম্যাচের ১৮৯ রান ছাড়িয়ে ঢাকা তোলে ১৯২ রান। ১ ওভারে দুই উইকেট পাওয়ার পর আর বোলিং পাননি স্টার্লিং। প্রতিপক্ষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সামনেও ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন পেসার ভিসা। খুলনার যা ব্যাটিং শক্তি, ঢাকার বোলিংয়ের বিপক্ষে এই রান তাড়া করা তাদের কাছে ছিল ভীষণ কঠিন। তারা জাগাতে পারেনি নূন্যতম সম্ভাবনাও। শুরুতে ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন জুনায়েদ সিদ্দিক। কিন্তু আরেক পাশে উইকেটে পড়েছে নিয়মিত। ৩ ছক্কায় ১৬ বলে ৩১ রান করে সাকিবের শিকার হন জুনায়েদও। মিডল অর্ডারে দলকে হতাশ করেন মাহমুদউল্লাহ, নাজমুল হোসেন শান্তরা। ফিল্ডিংয়ে চোট পাওয়া আলি খান নামতে পারেনি ব্যাটিংয়ে। ১৩ ওভারেই শেষ হয় খুলনা ইনিংস।
ঢাকার দ্বিতীয় জয়ে দ্বিতীয়বার ম্যাচ সেরা জাজাই। দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে ছক্কা এসেছে এক ডজন!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা ডায়নাইমাটস: ২০ ওভারে ১৯২/৬ (জাজাই ৫৭, নারাইন ১৯, রনি ২৮, সাকিব ০, পোলার্ড ২৭, রাসেল ২৫, শুভাগত ১১*, সোহান ৯*; আলি ৩-০-২৬-১, শরিফুল ৩-০-৫০-০, ভিসা ৪-০-২৪-২, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-২৬-১, জহির ৪-০-৩৫-০, স্টার্লিং ১-০-২-২, তাইজুল ২-০-১৯-০)।
খুলনা টাইটানস: ১৩ ওভারে ৮৭ (স্টার্লিং ১, জুনায়েদ ৩১, জহুরুল ১, মাহমুদউল্লাহ ৮, শান্ত ১৩, আরিফুল ১৯*, ভিসা ৬, তাইজুল ২, শরিফুল ০, জহির ০, আলি (আহত অনপস্থিত); রাসেল ২-০-৯-০, সাকিব ৩-০-১৮-৩, নারাইন ৩-০-২০-২, রুবেল ২-০-২২-০, শুভাগত ১-০-৪-১, মোহর ২-০-১৩-১)।
ফল: ঢাকা ডায়নামাইটস ১০৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হজরতউল্লাহ জাজাই