নড়াইলে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ

নড়াইল পৌরসভাবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট)। পানি শোধনাগারটির কার্যক্রম ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে চালু হবে বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। শোধনাগারটির নির্মাণের মূল কাজ প্রায় ২ বছর আগে শেষ হয়েছে। পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইনের কাজ বর্তমানে চলছে। শহরের বিভিন্ন জায়গা খুড়ে পাইপ লাইন বসানোর কাজও শেষের পথে। শোধনাগারটি চালু হলে পৌরসভার ১৪ কিলোমিটার এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা পাবেন।নড়াইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে নড়াইল শহরের কুরিগ্রাম এলাকায় ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু হয়। মেসার্স এসএইচই-এমটি এন্ড এস এস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ প্লান্টটির নির্মাণ কাজ পেয়েছে। দু’বছর আগে পানি শোধনের সমস্ত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি পাম্প নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে পাম্প হাউজ ও বর্জ পানি অপসারনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মিত হয়। অফিস সুত্রে জানা গেছে, শোধনাগারটিতে ২টি পানি পাম্প হাউজ, একটি সাব মারসিবল পাম্প হাউজ ও প্রায় ২ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ লাইন, ৭শ’ মিটার ড্রেনেজ ও ১টি ট্রান্সফরমার থাকবে। নড়াইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো খায়রুল হাসান জানান, পৌরসভার চারটি পানি পাম্প থেকে এ পানি শোধানাগারে আসবে। তারপর দুই বার ক্যামিকাল দেয়াসহ মোট ৬টি ধাপ শেষে এ পানি শোধন হবে। পানি শোধনের পর বর্জ পানি ড্রেনের মাধ্যমে অপসারন করা হবে। এই পাম্প থেকে ঘন্টায় সাড়ে তিনশ’ ঘনলিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। নড়াইল পৌরসভার বর্তমানে যে চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি সাপ্লাই দিতে পারবে এ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। নড়াইল পৌরসভার মেয়র মো জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, পানি শোধনাগার চালু হলে পৌর এলাকার মানুষ বিশেষ নাগরিক সুবিধা পাবেন। পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা দিবে এ প্লান্ট। ধনী-গরীব সবাই এই বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন বলে তিনি (পৌর মেয়র) জানান। নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা মশিউর রহমান বাবু জানান, আয়রণ যুক্ত পানি পান করলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ হতে পারে। নড়াইলে পানি শোধনাগার চালু হলে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ অনেকটা কমে যাবে।