টার্কি চাষে লাভবান উম্মে সায়মা বেগম

14

দু সন্তানের জননী উম্মে সায়মা বেগম। তিনি একজন গৃহিনী। সংসারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি তার স্বামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবতলা ইউনিয়নের পলশা মিশন এলাকার নূরুল ইসলাম। চার বছর পূর্বে প্রবাসে গিয়েছিলেন কর্মসংস্থানের জন্য। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। খোঁজ করতে থাকেন নতুন কিছু করার জন্য।
অবশেষে খোঁজ পেলেন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রাণিসম্পদ ইউনিটের আয়বর্ধনমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির। প্রয়াসের গোবরাতলা শাখা অফিসে যোগাযোগ করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: শাহরিয়ার কামালের সাথে। তাদের আগ্রহ দেখে ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর পল্লী কর্ম- সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়নে পরিচালিত প্রয়াসের টার্কি পালন প্রদর্শনীর আওতায় ২০টি টার্কির বাচ্চা দেয়া হয় নুরুল ইসলামের স্ত্রী সায়মা বেগমকে। এর পাশাপাশি তিনি নিজেও ২০ টি বাচ্চা ক্রয় করেন। এ সময় টার্কি পালনের উপর প্রশিক্ষণও দেয়া হয় তাকে। মাচা ও বাফার এলাকা তৈরি, টিকা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাসহ টার্কি পালনের যাবতীয় ঝুঁকিগুলো হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয় সায়মা বেগমের স্বামী নূরুল ইসলামকে। সাথে থাকে তাদের দৃঢ় পথচলা এবং জীবনের হার না মানা সংগ্রাম। ছয় মাস পর থেকে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেন প্রথম ডিম পাওয়ার মাধ্যমে। দশ পনের দিনের ব্যবধানে ১০-১২ টি করে ডিম পেতে থাকেন তারা। সে সময় ১৭ টি মা টার্কির জন্য ৬টি পুরুষ রেখে বাকিগুলো মাংসের জন্য কিক্রি করে ২৪ হাজার টাকা আয় করেন। এ উপার্জন দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর জন্য মিনি হ্যাচারি তৈরি করেন নূরুল ইসলাম। শুরু করেন বাচ্চা ফুটানো। কয়েক মাসের মধ্যে ২৫০ টির মতো বাচ্চ বিক্রি করতে সক্ষম হন, যা দ্বারা প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় করেন। অনেকে দেশি মুরুগি দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিম কিনতে শুরু করে এ খামার থেকে। প্রতিটি ডিম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় ১০ হাজার টাক লাভ করেন। ৬০ টি বাচ্চা রেখে দেন বড় করে অভিভাবক স্টক বৃদ্ধির জন্য, বড় হলে কিছু পুরুষ টার্কি বিক্রি করে পুনরায় ৩০ হাজার টাকা লাভ করেন খামার প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক খামারি গড়ে উঠেন নূরুল ইসলামের টার্কির খামার দেখে। শুধু বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নেই ২০ টির মতো খামার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি জেলার বাইরে থেকেও বাচ্চা নিয়ে যায় অনেকে। খাদ্য হিসেবে রেডি ফিডের পাশাপাশি কচুরিপানা ও নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত ধান-গম খাওয়ান টার্কিকে।
এ বছরের অক্টোবর মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনদিনব্যাপী “জাতীয় উন্নয়ন মেলায়” এ খামারের প্রদর্শনী করা হয়। জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভূয়সী প্রশংসা করেন। নূরুল ইসলামের ভাষ্যমতে তার খামার থেকে এ মুহূর্তে মাসিক প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা লাভ হয়। তাই বেকার যুবকদের টার্কি পালন করলে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে মনে করেন নুরুল ইসলাম। তবে বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটা হলেও চিন্তিত নুরুল ইসলাম। খামারটি তিনি ও তার মা মোসা. নূরজাহান বেগম দেখা শোনা করেন।