ক্রিমিয়া উপকূলে ইউক্রেনের ৩ জাহাজ জব্দ করলো রাশিয়া

4

অধিকৃত ক্রিমিয়া উপকূলে ইউক্রেন নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ জব্দ করেছে রাশিয়া। রোববার জাহাজগুলো জব্দ করার আগে সেগুলোর দিকে গুলি ছুড়ে বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় নাবিককে আহত করেছে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। রাশিয়ার এ পদক্ষেপে দেশ দুটির মধ্যে বিপজ্জনক নতুন সংকট শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য রয়টার্সের। রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দিনের শুরুতে রাশিয়ার এফএসবি নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত টহল বোটগুলো কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো জব্দ করেছে এবং সেগুলো থামাতে অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এফএসবি জানিয়েছে, তারা এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কারণ ইউক্রেনের জাহাজগুলো অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছে, অবৈধ পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় সতর্কতা জানানো হলেও তা উপেক্ষা করেছে।
জাহাজগুলোর মধ্যে দুটি গানবোট ও একটি টাগবোট রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রচারিত এক বিবৃতিতে এফএসবি বলেছে, “ইউক্রেনের জাহাজগুলোকে জোর করে থামানোর জন্য অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের তিনটি জাহাজকেই কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়া ফেডারেশনের জলসীমা থেকে জব্দ করা হয়েছে।”  এ ঘটনার সময় আহত তিন ইউক্রেনীয় নাবিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে এফএসবি। জাহাজগুলো কোনো আইন ভঙ্গ করেনি দাবি করে রাশিয়া সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। রাশিয়াকে শাস্তি দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রাশিয়ার অনুরোধে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার সহকারী রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পোরোশেঙ্কো জানিয়েছেন, দেশে সামরিক আইন জারির জন্য পার্লামেন্টের কাছে প্রস্তাব রাখবেন তিনি।
ক্রিমিয়াকে নিজেদের সীমান্তভুক্ত করে নেওয়া ও ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কোপন্থি বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক আগে থেকেই নাজুক হয়ে আছে, এর মধ্যে এ ঘটনা দেশ দুটিকে বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষদের।