ফুরফুরে মেজাজে শাহাদাত

এইতো সেদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন দিনের অনুশীলন ম্যাচে বিসিবি একাদশে ডাক পেয়েছেন লাল সবুজের হয়ে বল হাতে একসময় গতির ঝড় তোলা পেসার শাহাদাত হোসেন। এর কিছু দিন না যেতেই আরও একটি সুখবর। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসে ডাক পেয়েছেন।
জাতীয় ক্রিকেট লিগেও (এনসিএল) আছেন ফর্মের তুঙ্গে। কাজেই বর্তমান সময়টি যে শাহাদাতের অনেক ভাল যাচ্ছে সে কথা বলার আর অপেক্ষা থাকছে কই?
অথচ বিপিএলের গেল আসরে কোনো দলই তাকে ডাকেনি। তাই কখনো মাঠে আবার কখনো টিভিতে বসে সতীর্থদের খেলা দেখেই তাকে তুষ্ট থাকতে হয়েছে। শাহাদাত সবশেষ বিপিএলে খেলেছিলেন ২০১৬-১৭ মৌসুমে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে।
তার পরের আসরেই দুঃসংবাদ। ড্রাফটে ৭ ফ্র্যাঞ্চাইজিই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। জাতীয় দলে নেই, ঘরোয়া ক্রিকেটেও আহামরি পারফরম্যান্স ছিলো না, বিপিএলেও কেউ দলে টানলো না! নিদারুণ হতাশায় কেটেছে পুরো একটি বছর।
জাতীয় দলের চৌহদ্দিতেও ছিলেন না গেল ৩ বছরেরও বেশি সময়। ২০১৫ সালের এপ্রিলে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন। এরপর ইনজুরি, ফর্মহীনতা, গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ সবকিছু মিলে বিপর্যস্ত ক্যারিয়ার।
কিন্তু এখন বলতে গেলে সবই তার হাতের মুঠোয়। জাতীয় দলে না হোক বিসিবি একাদশ তো জাতীয় দলের চৌহদ্দি-ই। যেন পোড়খাওয়া ক্যারিয়ারে নতুন করে বসন্ত ধরা দিয়েছে। পাতা ঝড়া শীতের জীর্ণতা ও রুক্ষতার পর বসন্তে নতুন পত্র পল্লবে বনানী যেমন সুশোভিত হয়ে ওঠে। তার ক্যারিয়ারটিও এখন ঠিক তাই।শাহাদাত হোসেন-ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমচট্টগ্রাম থেকে মুঠোফোনে নিজেই সেকথা জানালেন।
‘সময় অনেক ভালো যাচ্ছে। হয়তো আল্লাহ আমার দিকে তাকাচ্ছে। এখন আমাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে।’ ঢাকা ডায়নামাইটস একাদশে আমার সুযোগ থাকবেই। আমি আছি, রাসেল আছে (আন্দ্রে রাসেল), রুবেল আছে (রুবেল হোসেন), অনীক আছে (কাজী অনীক)। আর সুযোগ আসলে কাজে লাগাতে চেষ্টা করবো।’
আর বিসিবি একাদশে সুযোগটাকে দেখছেন প্লাস পয়েন্ট হিসেবে। কেননা এখানে পারফর্ম করলেই যে সোজা জাতীয় দল। যদিও সবার ক্ষেত্রে বিষয়টি সমানভাবে কাজ করে না। কিন্তু যেহেতু ভাগ্য দেবীর প্রশন্ন দৃষ্টি তার ওপর পড়েছে সেহেতু তার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে না তারই বা গ্যারান্টি কি?
২০০৫ সালে ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় শাহাদাতের। এখন পর্যন্ত ৩৮ টেস্টে ৭২টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। মাশরাফি বিন মর্তুজার ৭৮ উইকেটের পরই পেসার হিসেবে টাইগারদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট তার দখলে।
এছাড়া ৫১ ওয়ানডেতে ৪৭ উইকেট ও ৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৪টি উইকেট নিয়েছেন দীর্ঘকায় এই বোলার। তিনি বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকও করেছেন।