ফের সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিলেন ট্রাম্প

ফের সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের এবং আমাকে দোষারোপ করতে ফেক নিউজগুলো (মূল ধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যম) তাদের যাবতীয় শক্তি নিয়োগ করেছে। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে এই বিভাজন ও ঘৃণা চলে আসছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের ভুয়া ও অসৎ রিপোর্টিং তাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সমস্যা তৈরি করছে! ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টাকে ট্রাম্প বলে বসেন, ‘আপনি ফেক নিউজ’! এরপর টুইটারে বারবার এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন তিনি। ইতোপূর্বে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ বলা ছাড়াও সাংবাদিকদের তিনি ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন ‘নোংরা যুদ্ধের’ প্রতিবাদে গত আগস্টে একাত্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রের তিন শতাধিক সংবাদমাধ্যম। মার্কিন দৈনিক দ্য বোস্টন গ্লোব ওই সমন্বিত ক্যাম্পেইনের ডাক দেয়। এতে সাড়া দিয়ে একযোগে ট্রাম্পবিরোধী সম্পাদকীয় প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের তিন শতাধিক সংবাদমাধ্যম। এসব সম্পাদকীয়তে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়। এই প্রচারণার নাম দেওয়া হয় ‘ফ্রি প্রেস ক্যাম্পেইন’। প্রচারণায় ‘এনিমি অব নান’ নামের একটি হ্যাশট্যাগও যুক্ত করা হয়। বোস্টন গ্লোবের সম্পাদকীয়তে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘সাংবাদিকরা শত্রু নয়’। এতে উল্লেখ করা হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টি ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকান মূলনীতিগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু এ বিষয়টি এখন ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দৃঢ়ভাবে গোপনে সংবাদমাধ্যমের ক্ষতি করার নীতি নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কাজকে বিপজ্জনক করে তুলেছেন। তিন শতাধিক সংবাদমাধ্যমের একযোগে প্রচারণার দিনও একই ভাষায় কথা বলেছেন ট্রাম্প। এদিন টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ফেক নিউজ মিডিয়া হচ্ছে বিরোধী দল। এটা আমাদের মহান দেশের জন্য খুবই খারাপ…. কিন্তু আমরা বিজয়ী হচ্ছি।’ সূত্র: বিবিসি।