বাবরি মসজিদ মামলার আগাম শুনানির আবেদন খারিজ, শুরু জানুয়ারিতে

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমি নিয়ে মামলায় উত্তর প্রদেশ সরকারের আগাম শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে এই মামলার ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির পথ উন্মুক্ত হওয়ায় আগাম শুনানির আবেদন জানিয়েছিল উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার। তবে গতকাল সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈই জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কোনও বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে তা ঠিক করা হবে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুসার মেহতা আলোচিত এই মামলা সুপ্রিম কোর্টের দিওয়ালি ছুটির পর শুনানির জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের বিপরীতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈই গতকাল সোমবার জানান, জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চই শুনানির তারিখ ঠিক করবে। তিনি বলেন, কোনও বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে তা আমরা এখনও জানি না। বাবরি মসজিদের অবস্থান উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাংশের দাবি, যেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে সেই জায়গাটি ছিল রামের জন্মভূমি, তা ভেঙে মসজিদ বানানো হয়। এ নিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ বহুদিনের। ১৯৯২ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। এর জেরে সৃষ্ট দাঙ্গায় প্রাণ হারায় অন্তত ২ হাজার মানুষ। ভারতের প্রাচীন শহর অযোধ্যার ওই বিতর্কিত স্থানটি কোন সম্প্রদায়ের দখলে থাকবে, তা নিয়ে মামলা চলছে ৬০ বছর ধরে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল বাবরি মসজিদের ভূমি তিন ভাগে ভাগ করে বণ্টনের আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনায় মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড, নিরমাজি আখড়া আর রামনালা পার্টিকে সেখানকার ২.৭ একর জমি সমানভাগে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিন্দু-মুসলিম দুই পক্ষই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিল। ২০১০ সালের এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনটি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুনানির কথা রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, বাবরি মসজিদ মামলায় মুসলিমরা যে দাবি উত্থাপন করেছে- ‘বিতর্কিত’ মসজিদটিকে প্রার্থনার জায়গা হিসেবে উল্লেখ এবং মসজিদকে ইসলামের মৌলিক উপাদান বলেছে- সেই প্রশ্নের আগে মীমাংসা হওয়া দরকার। ১৯৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করেছিল, নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয়। তা যে কোনও স্থানে বসেই পড়া যেতে পারে। তাই প্রয়োজন পড়লে সরকার মসজিদের জমিও অধিগ্রহণ করতে পারে। এ সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত আগের রায়টিকে বহাল রেখেছে। ফলে খুলে যায় অযোধ্যা মামলার ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির পথ।