নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হল তিনদিনের তথ্য মেলা

তথ্যের অধিকার, সুশাসনের হাতিয়ার; তথ্যই শক্তি, দুর্নীতি থেকে মুক্তি এমন স্লোগানকে সামনে রেখে নানান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে সোমবার রাতে শেষ হয়েছে তিনদিনের তথ্যমেলা। হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গত শনিবার সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে।
মেলার শেষ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। সনাকের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রেজার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ড. চিত্রলেখা নাজনীন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধক্ষ্য প্রফেসর মো. দাউদ হোসেন, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধক্ষ্য প্রফেসর মনোয়ারা খাতুন, সনাকের সদস্য সেলিনা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক বলেন, সরকারের কোন দপ্তর কোন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে সেই তথ্যগুলো সাধারণ মানুষের জন্য এই মেলা অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। ৩ দিনেরে এই মেলায় সরকারি সেবা খাতে হয়রাণী বন্ধে অনেক ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সরকার দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। ২০৪১ সালের মধ্যে এদেশ একটি সমৃদ্ধিশালী ও উন্নত দেশে পরিণত হবে। এসময় তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি দপ্তরগুলো কোনো নাগরিককে যাতে হয়রাণী বা ঠকাতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জেলা প্রশাসনের সেবা সম্পর্কিত যেকোন সমস্যা হলে আমাকে জানালে কার্যকর ব্যবস্থা নিবো।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারী সকল স্টলকে ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
এ দিকে মেলার সমাপনী দিনে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে আগ্রহের সাথে দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন স্টগুলো। মেলায় আসা এমনি কয়েকজনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। পৌরসভার আরামবাগ এলাকার শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মেলায় এসেছেন পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে। তিনি জানান, সবগুলো স্টল ঘুরে দেখলাম। এখানে এসে সরকারি অনেক দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য জানতে পারলাম। সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে আজকের এই মেলায় এসে অনেক উপকার হল।
নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বন্ধুর সাথে মেলায় এসেছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এমন মেলার আয়োজন সত্যিই আমাদের অনেক উপকারে আসবে। আমরা এখানে আসার আগে জানাতাম না, রেলওয়ের টিকিট কোন ইন্টারনেট ছাড়াই শূধুমাত্র মোবাইলের মাধ্যমেই জানা যায়। তাছাড়াও টিকিট কাটা ট্রেনের অবস্থানও মুঠাফোনের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারবো। ৩ দিনের এ মেলায় সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ৫৭ টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে সরকারি দপ্তরের সংখ্যা ছিল ৪৭টি।