এত অল্প সময়ে কোনো দেশ এতটা উন্নতি করতে পারেনি : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে কোনো দেশ এতটা উন্নতি করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০ জেলায় ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে রয়েছে সেতু, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাতৃসদনসহ বিভিন্ন প্রকল্প। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ করব, দারিদ্র্য দূর করব। সে ব্যাপারে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। বাংলাদেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, সব দিক থেকে মানুষ যেন একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছি। এ সময় কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নকাজ শেষে তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জনগণের বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। যার ফলে এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে দিনবদলের যাত্রা। এত অল্প সময়ে কোনো দেশ এতটা উন্নতি করতে পারেনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের মানুষের দিনবদলের যাত্রা শুরু হয়েছে। ক্ষুধা-দারিদ্র্য কমানো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ এগিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত সাতটি সেতু, একটি জেটি, নয়টি উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম এবং ছয়টি নগর মাতৃসদন ভবন ও দশটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করে। সব দিক থেকে মানুষ যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে, সেই চেষ্টা তার সরকার করছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির সড়কে ডেপা নদীর ওপর ২২৮ মিটার দীর্ঘ সেতু, জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৫৬০ মিটার দীর্ঘ ‘শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সেতু’ ও ‘শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম সেতু’, টাঙ্গাইলে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ৫২০.৬০ মিটার দীর্ঘ ‘দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা সেতু’, শ্রীপুর উপজেলায় ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু, মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর ৬৮৬.৭৫ মিটার দীর্ঘ ‘শেখ লুৎফর রহমান সেতু’ এবং নড়াইলে চিত্রা নদীর ওপর ‘শেখ রাসেল সেতুর’ উদ্বোধন করেন। এছাড়া টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে নির্মিত ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটিরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার মিরপুর এক নম্বর সেকশনে,গাজীপুরের দক্ষিণ কোলার বাজারের ধীলাশ্রমে,রংপুরের পূর্ব খাসবাগে,কিশোরগঞ্জের হারুয়ায়,কুষ্টিয়ার মিলের পাড়ায় ও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় ছয়তলা নগর মাতৃসদন এবং গাজীপুরের নীলের পাড়ায়,কুমিল্লার কমলাপুর,বাউবন্দ ও রসুলপুরে,রংপুরের এরশাদ নগর ও জুমাপুড়ায়, কুষ্টিয়ার বারাদি ও বড়খাদায়, কিশোরগঞ্জের নুরানী ও তারাপাশায় তিনতলা নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, গত দশ বছরে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে এবং দিনবদলের যাত্রা শুরু হয়েছে। নীলফামারীর ডোমার, নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগর, নাটোরের সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, যশোরের শার্শা এবং নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ‘উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম’ এর উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যতœবান হতে বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাদারীপুর, কুমিল্লা, নওগাঁ, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুরে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

SHARE