চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা মানুষের দোরগোড়ায়

<সাহিনা আক্তার>

যেকোন চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আসতে হতো জেলা শহরে। আর তাই জনসাধারনের দোর গোড়াই স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। স্থাপন করা হয় ১৩ হাজার ৫০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এ-সব ক্লিনিক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটিরও বেশি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছে এবং এর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ ১৯ হাজার মানুষ সেবা গ্রহণ করছে। সারাদেশে গ্রমীণ জনপদের সাধারণ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সেবার সুফল ভোগ করছে। দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য অর্জনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে এজন্য বাংলাদেশকে পার হতে হয়েছে অনেক কঠিন ও দীর্ঘপথ।
দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় ১৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। এসব ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার গ্রামের প্রান্তিক মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে।
এসব কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিক একটি। দুই রুম বিশিষ্ট এ ক্লিনিকে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। এখানে কর্মরত ব্যক্তি (কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার) এসব রোগীদের চিকিৎসাসহ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ সরবরাহ করেন।
বালিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার তাজরীন বেগম বলেন, এই ক্লিনিকে ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দি-কাশি, জ্বরসহ ছোটখাটো রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনি গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদেরকে চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেয়া হয়।
ওষুধগুলো বিনামুল্যে দেয়া হয়। এই ক্লিনিক হওয়াতে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে আশা করছেন এই ক্লিনিক থেকে আরোও উন্নত সেবা দেয়া যাবে। সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত সেবা প্রদান করা হয়।
সেবা নিতে আসা কয়েকজনের সাথে বললে শামীমা নামে এক নারী বলেন-পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে এখান থেকে স্যালাইন নিয়ে যায় তারা ওষুধ দেয়। এখানে সেবা পেতে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। যখন আসি তখনি পায়। এখানে ক্লিনিকটা হওয়াতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়, আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছে। সেবা গ্রহণকারী আসমা নামের এক নারী জানান, আমাদের হঠ্যাৎ করে অসুখ বিসুখ হলে আগে এখানে কোনো চিকিৎসা পেতাম না। এখন এ ক্লিনিকটা হওয়াতে আমরা এখানে এসে সহজেই সেবাটা পাচ্ছি আমরা তো বাজার (শহর) যেতে পারছিনা। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এখানে ক্লিনিক করে দেবার জন্য। আমরা আশা করি যেন তিনি যেন আরোও সুন্দর সেবার ব্যবস্থা করে দেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. সায়ফুল ফেরদৌস মোহাম্মদ খায়রুল আতার্তুক বলেন-জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় ১৪৬ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। জনবল রয়েছে ১২৩ জন। তবে জনবল নিয়োগ পরীক্ষা হয়ে গেছে। অচিরেই নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি এসব ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসাটা দেওয়া হয়। মা ও শিশুর টিকা দেওয়া হয়। গর্ভবর্তীদের চিকিৎসা করা হয়। তবে বড় কোনো অসুখ হলে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা জেলা সদর অথবা উপজেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। প্রত্যেকটা কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন প্রোভাইডার আছে। আমরা প্রতি মাসে প্রত্যেকটা ক্লিনিকে যায়। ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না পর্যবেক্ষণ করি।
ফেলো
রেডিও মহানন্দা , চাঁপাইনবাবগঞ্জ ।

SHARE