বিচার এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন সিনহা : আইনমন্ত্রী

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার বিষয়টি ‘দুদকই দেখবে’ বলে মন্তব করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, বিচার এড়াতে চান বলেই হয়ত বিচারপতি সিনহা দেশে না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন। মঙ্গলবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বিএনপি ছেড়ে আসার পর এখন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করেন। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং খাস কামরায় ডেকে উৎকোচ দাবি করেছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন হুদা। মামলাটি দুদক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় তা দুদকে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। ওই মামলা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মামলা যেহেতু হয়ে গেছে, আমি সে বিষয়ে কোনো কথা কখনও বলি নাই, এখনো বলব না। দুদক তার দায়িত্ব পালন করবে। এটা তাদের ব্যাপার। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে থাকা বিচারপতি সিনহা গত বছরে অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। এক বছরের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে বসে একটি বই প্রকাশ করে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, সরকার তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। গত শনিবার ওয়াশিংটনে ওই বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিচারপতি সিনহা বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করলেও এখনও তার ফয়সালা হয়নি। এ প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজকে এটা পরিষ্কার হল যে, এসব কথা উনি বলছেন এ কারণে যে, তিনি বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। তার কারণ হচ্ছে তিনি দেশে এলে হয়ত তার মধ্যে ভয় আছে যে, এই যে মামলা, মামলাগুলির মুখোমুখি হতে হবে। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহার বই প্রকাশের পর তার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নামার কথা জানিয়েছে দুদক। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে ওই বইয়ে বিচারপতি সিনহা যেসব অভিযোগ করেছেন, তা ‘মিথ্যা; বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, উনার যে, এই দেশের প্রতি কোনো আনুগত্য নেই সেটা বোঝাই যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে, যেসব কথা আজকে উনি বলছেন, উনি কিন্তু সেইসব কথা আগেও বলতে পারতেন, দেশে থেকেও বলতে পারতেন, কিন্তু সেগুলো যেহেতু মিথ্যা, সেজন্য তিনি সেসব কথা দেশের বাইরে গিয়ে বলছেন। বিদেশ থেকে বিচারপতি সিনহাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কোনো উদ্যোগ সরকার নেবে কি না- এ প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া যেটা বলছেন, সেটা আদালতের মাধ্যমে হবে, মামলা যখন চলবেৃ সেটুকু আমি বলতে পারি। এর আগে আইনমন্ত্রী জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা লিগ্যাল এইডের ‘সফটওয়্যার ও অ্যাপ উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে এ আনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, সাবেক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, যুগ্ম আইন সচিব বিকাশ কুমার সাহা, লিগ্যাল এইডের পরিচালক মো. জাফরোল হাছান ও সহকারী পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন বক্তব্য দেন।