হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে

<সাহিনা আক্তার>

আজকের পৃথিবীতে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসিম। শিক্ষা ছাড়া কোনো কাজই করা যায় না। এখন দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্বটা বেশি দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। তাই সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব দিয়েছে।
কিন্তু তারপরও হরিজন সম্প্রদায়েরা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা মেথরের ছেলেমেয়ে হিসেবে পরিচিত, তাই তারা অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত। তারা শিক্ষা জীবনে প্রবেশ করতে পারে না। দুয়েকজন বিদ্যালয়ে গেলেও হরিজন হওয়ায় সহপাঠিদের কাছ থেকে তারা ভালো আচরণ পায় না। আবার শতপ্রতিকুলতা উপেক্ষা করে দুয়েকজন পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও তাদের জন্য চাকরির কোনো ব্যবস্থা নেই।
এ বৈষম্যের ফলে তারা পড়ালেখার পরিবর্তে ছোট বয়সেই ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে লেগে যায়। তেমনই ২০-৩০ হরিজন পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন এলাকায় বসবাস করে। এখানকার হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুরা স্কুলে ‘মেথর’ বলে সহপাঠিরা পাশে বসতে চায়না। শ্রাবনী নামের এক হরিজন মেয়ে বলে ‘‘আমাদের সবাই ছোট চোখে দেখে, আমাদের অবহেলা করে। আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করতে করতে ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের কষ্ট ছিল এবং আমাদের ছোট চোখে দেখত আর ডোম বলে ডাকতো। আমি পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম, ভবিষ্যৎ ভালো করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাদের সবাই অবহেলা করত, এ জন্য পড়ালেখা করতে পারিনি। আমাদের আয় কম। ফলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারি না। তাছাড়া পড়ালেখা করিয়ে তো আবার সেই পরিচ্ছন্নতার কাজই করতে হচ্ছে’’। কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা হলে তারা আক্ষেপ করে বলেন আমরা তো চাই আমরা মানুষের মতো মানুষ হব। কিন্তু তাতো পারি না। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি করতে পারি না। অভিভাবক মালতি বলেন এতো প্রতিকুলতার মধ্যেও আমরা যে এতটাকা খরচ করে যতটুকু সম্ভব ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখাচ্ছি কিন্তু আদো আমাদের কোনো কাজে লাগে না। শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে না শিক্ষিত হওয়ায় ভালো। আমাদের আয় কম যা টাকা ইনকাম করি কোনরকমে পেট চলে। পড়ালেখার খরচ চালাতে পারি না ছেলেমেয়েদের যে ভালো পরিবেশে মানুষ করব সেটাও পারি না।
সবার শিক্ষার সমান অধিকার আছে, তাই অতীতের তুলনায় বর্তমানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানেরা অনেক বেশি বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, এই হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েদের আমরা সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাথেই পাঠদান করছি। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি যে তারা যেন সবাইকে একসাথে বসিয়ে ক্লাস নেয় এবং সমানভাবে যেন লেখাপড়া করে। আর সেটা তারা করছে। আমি অনুরোধ করব সকল হরিজন সম্প্রদায়ের বাবা মাকে তারা যেন স্কুলে ছেলেমেয়েদের পাঠান, আমরা আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিব। তিনি জানান, সরকারও পদক্ষেপ নিয়েছে তাদের জন্য বৃত্তি-উপবৃত্তির। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে-এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

ফেলো
রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম