জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সরকারের অবদান

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প অপার সম্ভাবনার হাতছানি। বাংলাদেশে নির্মিত পণ্য এবং যাত্রী বহনকারী জাহাজ ডেনমার্ক, জার্মান, পোল্যান্ডে যাচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে নির্মিত জাহাজ ক্রয় করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধ-জাহাজ নির্মাণ করে নিয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাবনাময় এ শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং দেশের অর্থর্নীতিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা ও এর সার্বিক নিরাপত্তার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। যার ফলে গত ১০ বছরে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আয় হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।বাংলাদেশ এখন আর কেবল জাহাজ ভাঙ্গার দেশ নয়, বরং জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ রপ্তানিরও দেশ। বেশ কয়েক বছর ধরেই সরকারের সহযোগিতায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জাহাজ নির্মাণ করছে এবং তা বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করছে। এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ নতুন পরিচিতি লাভ করেছে এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে নতুন একটি যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজ নির্মাণ এবং রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ সাফল্যের নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। নিঃসন্দেহে এটি সরকারের জন্য বিরাট একটি অর্জন।দেশে রফতানিমুখী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১০টি। ২০০৮ সালে জার্মানির স্টেলা শিপিং কোম্পানির কাছে প্রথম ‘এমভি স্টেলা ম্যারিস’ নামের সমুদ্রগামী বহুমুখী পণ্য পরিবহনের উপযোগী জাহাজ রফতানি করে আনন্দ শিপইয়ার্ড। এরপর জাহাজ রফতানিতে যুক্ত হয় চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। গত ৮ বছরে বিশ্বের ১১টি দেশে মোট ৪২টি জাহাজ রপ্তানি করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এরমধ্যে ওয়েস্টার্ন মেরিন শীপইয়ার্ড লিমিটেড রপ্তানি করেছে ২৭টি জাহাজ। যার মূল্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অবশিষ্ট জাহাজগুলো রপ্তানি করেছে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়ে লিমিটেড। বর্তমানে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নরওয়েতে রপ্তানির জন্য ৬টি জাহাজ নির্মাণ করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্তে¦ও এশিয়ার অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে দেশীয় কয়েকটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানও নির্মাণাদেশ নিশ্চিত করতে পেরেছে।রপ্তানি উন্নযন ব্যুরো তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথম ৫ মাসে তথা জুলাই থেকে নভেম্বরে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প থেকে ৩০৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা একই সময়ে গত অর্থবছরে ছিল ৫৪৩ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ এ খাতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ কারিগরদের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। এ সুনাম আরো বৃদ্ধি করতে সরকার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি , কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা, এ ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট করেছে। এ শিল্পের উন্নয়নে জন্য সরকারে আরও নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।