আশুরা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক

প্রাচীনকাল থেকে ‘আশুরা’ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর কাছে পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ। ইহুদিদের কাছে ‘আশুরা’ জাতীয় মুক্তিদিবস হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসের যাত্রালগ্ন থেকে আশুরা উত্থান-পতন, চড়াই-উতরাই ও ধ্বংস-গড়ার স্মৃতি ধারণ করে আসছে। আশুরাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে নানা ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত রচিত হয়েছে। নবী-রাসুলদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আশুরার মর্যাদাপূর্ণ অসংখ্য ঘটনার বিবরণও ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে রয়েছে।
আশুরার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষ দিক আছে। অনেক সময় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। সেটি হলো, আশুরা আন্তঃধর্মীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। বিভিন্ন হাদিস ও ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, আসমানি কিতাবপ্রাপ্ত বড় বড় প্রায় সব ধর্মের লোকেরা আশুরাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধাভরা চোখে দেখে। ইহুদিরা এই দিনে রোজা রেখে মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করে। এ ছাড়া খ্রিস্টানরাও এই দিনকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করে। তারা আশুরার দিনকে ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন মনে করে।
মুস্তাদরাকে হাকেমে জাবির (রা.) জায়দ আম্মি থেকে বর্ণনা করেন, ‘ঈসা ইবনে মারয়াম আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।’ যদিও আল্লামা জাহাবি (রহ.) বলেন, এ বর্ণনার সনদ দুর্বল। (হাকেম, হাদিস নং : ৪১৫৫)
ইতিহাসে দেখা গেছে, মূর্তিপূজক আরবরাও এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিতো। ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে মক্কার কাফিররা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করতো। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখতেন। সেদিন ছিল কাবাকে গিলাফ পরিধান করার দিন। যখন আল্লাহ রমজানের রোজা ফরজ করলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যারা রোজা (আশুরার দিনে) রাখতে চায়, তারা রোজা রাখবে, আর যারা ছেড়ে দিতে চায়, তারা যেন ছেড়ে দেয়। (বুখারি, হাদিস নং : ১৫৯২)
এসব বর্ণনা ও ইতিহাসের আলোকে বোঝা যায়, আশুরা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি নিদর্শন। সুতরাং বলা যায়, আশুরা আন্তঃধর্মীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

SHARE