তোহখানায় হযরত শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ:) এর ঔরশ শরীফ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের ঢল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সোনামসজিদের তোহখানায় প্রতিবছরের মতো এবারও হযরত শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ:) এর ঔরশ শরীফ পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকেই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা তোহখানায় এসে জমায়েত হন এবং সারারাত ধরে কোরআনখানী জিকির আজকারে মসগুল থাকেন। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় মুসুল্লিদের মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল। বাদ জুম্মা হযরত শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ:) এর ব্যবহৃত কাপড় চোপড় দেখানো হয় আগত মুসুল্লিদের।
ঔরশে আসা মুসুল্লিদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে ঔরশ ব্যবস্থাপনা কমিটি। দুপুরে সোনামসজিদ তোহাখানায় ইসালে সওয়াব উপলক্ষে আখেরী মোনাজাত অনূষ্ঠিত। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কোরানখানি ফাতেহা পাঠ কবর জিয়ারত শেষে শুক্রবার জুম্মায় বিশ্বমুসলিমসহ বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা মো. আবু সাঈদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলহাজ্ব এনামুল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী, জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শামিল উদ্দিন আহম্মদ শিমুলসহ অন্যরা।
এদিকে ঔরশকে ঘিরে গত দুবছর থেকে সোনামসজিদ মহাসড়কের উপর দুই পাশে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ের জন্য প্রায় ৩’শ দোকানপাট বসে। ঔরশ চলকালীন এ-সব দোকান বসানোকে নেতিবাচক ছোখে দেখছেন এলাকার মানুষ। কেননা দীর্ঘদিন ধরে ঔরশে শুধু দোয়া মাহফিল ও জিকির আজকারের মধ্য দিয়েই শুরু এবং শেষ হয়। কিন্তু এক শ্রেণির লোকেরা এই ঔরশ শরীফকে মেলায় পরিণত করেছে। ঔরশে আসা মুুসুল্লিরা এ সমস্ত দোকানপাট আগামীতে সরিয়ে ফেলার জন্য ঔরশ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।
এদিকে ঔরশ উপলক্ষে তোহাখানা প্রাঙ্গনে মেডিকেল টিম কাজ করেছে। সে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এসব এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি সিকদার মো. মশিউর রহমান জানান, ঔরশ উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়।

SHARE