সড়ক নিরাপত্তায় আমাদের সতর্ক হতে হবে

নিরাপদ সড়কের জন্য ছাত্র আন্দোলনের পর সরকার প্রশাসন জনসচেতনতা মূলক বেশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেশাদার-অপেশাদার গাড়ী চালক, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য পেশার জনসাধারণে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এত বড় আন্দোলন হল, তার পরও আমাদের সচেতনতা নেই। সড়কে যানবাহন ও পথচারীর চলাচলে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সর্ব প্রথম দরকার নাগরিক সচেতনতা। ফিটনেসযুক্ত যানবাহন, দক্ষ ও লাইসেন্সধারী চালক, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ফুটপাত-ফুটওভারব্রিজ, হাইওয়ে বিশ্রামাগার স্থাপনসহ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।
কিন্তু চালকের পাশাপাশি পথচারীদের বেপরোয়া মনোভাবও যদি দূর না হয়, তা হলে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে কী ভাবে? প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে সেই আক্ষেপের কথাই ফুটে উঠেছে। ট্রাফিক পুলিশ, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সমন্বয়ে ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম চলেছে। অথচ তার মধ্যেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে অহরহ।
গত জুলাই মাসে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দু স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আন্দোলনে নামেন ছাত্র-ছাত্রীরা। পরে সে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। টানা ১০ দিনের সেই আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনবার চেষ্টা করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে আসে। বর্তমানেও তারা রাস্তায় রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী হিসেবে নয়-তারা জনসচেতনতায় কাজ করছে। কাজ করছে একদল তরুণ রোভার। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি তারাও চালক. পথচারীদের সতর্ক করে দিচ্ছেন।
কিন্তু সব কথার শেষ কথা, সর্বপ্রথম আমাদের সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে গ্রাড়ী চালকদের যেমন গাড়ী চালাতে হবে তেমনি জনসাধারণকেও ট্রাফিক সাইন মেনে চলাচল করতে। মনে রাখতে হবে এক একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের জন্য কান্নায় রূপান্তরিত হতে পারে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস বা বন্ধ করতে হলে আমাদের সার্বিকভাবে সচেতন হবার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস, ফুটওভারব্রিজ ইত্যাদি ব্যবহারে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।