আরো জোর দিতে হবে মৌলিক গানের ওপর

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অনেক জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও আঁখি এতটুকু ক্লান্ত নন। প্রতিদিনই নতুন উদ্যমে দিন শুরু করেন তিনি। অডিও গানের বাইরেও প্লেব্যাকে তার অন্যরকম একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর স্টেজে তো আঁখির তুলনা তিনি নিজেই।
দেশ-বিদেশের স্টেজ সারা বছরই মাতিয়ে রাখেন এ শিল্পী। স্টেজে তার গান মানেই অন্যরকম কোনো কিছু। গেল ঈদটিও গানে গানে কাটিয়েছেন আঁখি। নতুন গান, মিউজিক ভিডিও, টিভি লাইভে সরব ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে কেমন আছেন? ঈদ কেমন কেটেছে? আঁখি বলেন, অনেক ভালো কেটেছে ঈদ। গানে গানেই কেটেছে। কারণ নতুন গান, টিভি অনুষ্ঠানসহ গানের মাঝেই ছিলাম ঈদের দিনগুলোতে। এদিকে, ঈদে আরেক জনপ্রিয় সংগীত তারকা আসিফ আকবরের সঙ্গে আঁখির নতুন গান ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। শিরোনাম ‘ওরে পাখি’। সুহৃদ সুফিয়ানের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন জুয়েল মোর্শেদ। আর এ গানটির মিউজিক ভিডিওতে অনবদ্য অভিনয় করেছেন আসিফ ও আঁখি নিজেই। আরটিভি মিউজিক থেকে প্রকাশিত এ গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন চন্দন রয় চৌধুরী। ঈদে শ্রোতা-দর্শকদের অন্যরকম আনন্দে ভাসিয়েছে গানটি। গানের কথা, সুর, গায়কীর সঙ্গে মিল রেখে এর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। আসিফের সঙ্গে এ গানে আঁখির রসায়ন আরো একবার গ্রহণ করেছেন শ্রোতা-দর্শক। গানটি ইতোমধ্যে ইউটিউবে ৮ লাখেরও বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন। এ বিষয়ে আঁখি বলেন, গানটি যখন তৈরি হয় তখনই
এটি নিয়ে অন্যরকম একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। আসিফ আকবর ও আমার ‘টিপ টিপ বৃষ্টি’ শীর্ষক গান এর আগে গ্রহণ করেছেন শ্রোতা-দর্শক। এবার ‘ওরে পাখি’ গানটির অসাধারণ সুর ও সংগীত করেছেন জুয়েল মোর্শেদ। চন্দন চৌধুরীও খুব সুন্দর ভিডিও বানিয়েছেন। তবে, প্রকাশের আগে কিন্তু এতটা প্রত্যাশা ছিল না। ‘ওরে পাখি’র সাড়া প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এজন্য গানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গানটি আরো ভালো পর্যায়ে যাবে। এদিকে, আঁখি আলমগীর শুক্রবার নাগরিক টিভির লাইভে অংশ নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে ঈদের লাইভ তাই অন্যরকমভাবে নাগরিক টিভি সাজিয়েছিল এ অনুষ্ঠানটি। আমি নিজেও অনেক উপভোগ করেছি। দর্শকদের অনেক সাড়া পেয়েছি। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে। চলতি সময়ের অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা প্রসঙ্গে আঁখি বলেন, অবস্থা ভালো ও খারাপ মিলিয়েই। তবে, আমি অনেক আশাবাদী। কারণ অনেক ভালো ভালো নতুন প্রতিভা এসেছে আমাদের সংগীতাঙ্গনে। তাদের মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে সামনে। এটা আমার বিশ্বাস। আর এখনতো ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। আমরাও সেভাবেই এখন গান করছি। গান শোনাটাও এখন সহজ হয়ে গেছে। তবে, একটি কথা বলতে চাই। সেটা হচ্ছে মৌলিক গানের ওপর আরো জোর দিতে হবে। কারণ শুধু কাভার করে আসলে টিকে থাকা যায় না। তাই মৌলিক গানের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ভালো কাজের প্রতি জোর দিতে হবে। তাহলেই ভালো কিছু হবে।