নির্ধারিত সময়ে সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে : নাসিম

কোনো শক্তি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঠেকাতে পারবে না মন্তব্য করে চৌদ্দ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন নির্ধারিত সময়ে সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে চৌদ্দ দলের শোক দিবসের আলোচনা সভায় নাসিম বলেন, নির্বাচনে যে কেউ অংশ নিতে পারে। নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু নির্বাচনের নামে কোনও ফাউল গেইম দেখতে চাই না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে এবং সঠিক সময়েই হবে। দুনিয়ার কোনো শক্তি আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচন কমিশনকে বলব, আপনারা এগিয়ে যান। একটি সুন্দর নির্বাচনের জন্য আপনারা আপনাদের কাজ চালিয়ে যান। নির্বাচন সামনে রেখে দেশে-বিদেশে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে দাবি করে নাসিম বলেন, চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে।… কিন্তু অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধ থেকে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষেত্রে চৌদ্দ দল কাজ করছে এবং করবে। সুশীল সমাজের সমালোচনা করে নাসিম বলেন, আজকাল বিভিন্ন জন, বিভিন্ন মানুষ কথা বলেন। কিন্তু যেদিন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের বৈধতা দেওয়া হল, খুনীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হল, তখন কোথায় ছিল এই সুশীল সমাজ? কেমন ছিল তাদের বক্তব্য? ১৫ অগাস্টে হিমালয়সম নেতাকে হত্যা করে যারা উল্লাস করেছিল, বাস্তবে সে হিমালয়ের কিছু হয়নি। হয়েছে ওইসব অন্ধদের, যারা জাতীয় শোক দিবসে কেক কেটে উল্লাস করে। এটা কি গণতন্ত্র? গণতন্ত্র মানে কি হত্যা-ষড়যন্ত্র করা? গণতন্ত্র মানে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস তৈরি করা? গণতন্ত্র মানে কি হাওয়া ভবন তৈরি করা? ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো ‘উদারতা’ দেখানো হবে না মন্তব্য করে নাসিম বলেন, উদারতা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। উদারতা দেখিয়েছি বলেই শেখ হাসিনার ওপর হামলা হয়েছে। সুতরাং সকল অপরাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও অপশক্তিকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করব, এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বিএনপির অপশাসন, দুর্নীত ও হাওয়া ভবন থেকে দেশের মানুষকে স্বস্তি দিতে গঠিত হয়েছিল চৌদ্দ দলীয় জোট। সে লক্ষ্য রেখেই আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার অভিপ্রায়ে কাজ করে যাচ্ছে চৌদ্দ দল। অন্যদের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের (একাংশের) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাসদ অন্য অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাতীয় পার্টি (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, গণ আজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ আলোচনায় অংশ নেন।