চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুনা চা’র কদর বাড়ছে

ডি এম কপোত নবী : 

চা মূলত ক্যামেলিয়া সিনেনসিন উদ্ভিদের পাতা, মুকুলের ও পর্বের কৃষিজ পণ্য যা বিভিন্ন প্রক্রিযায় তৈরী করা হয়। চা বলতে সুগন্ধযুক্ত এবং স্বাদবিশিষ্ট পানীয়কেও বোঝানো হয়। জানা যায়, চায়ের নামকরণ করা হয় গ্রীকদেবী ‘থিয়া’ (Thea) এর নামানুসারে। এবং এর জন্মস্থান চীনদেশে।  চা এর বৈজ্ঞানিক নাম Thea Sinensis এবং  Camellia Sinensis এটি Theaceae পরিবারের সদস্য।  প্রধানত ৩ ভাবে যথা-দুধ চা, সবুজ চা ও লেবু চা বা আদা চা হিসেবে পান করা হয়। লেবু চা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। এছাড়াও রং চা বা র চা বা লাল চা’র রয়েছে ব্যাপক কদর।

বাড়িতে অতিথি আসলে যা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় সেটা হচ্ছে গরম চা। চায়ের সাথে বিস্কুট হচ্ছে মামানসই আপ্যায়ন। গল্পের আড্ডায় কিংবা পারিবারিক আয়োজনে চা না হলে যেন জমেই না। দেশের আনাচে কানাচে তাই অসংখ্য চায়ের স্টল দেখতে পাওয়া যায়। তেমনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে রুবেলের ভুনা চা। প্রায় ১২ বছর যাবৎ তিনি এ চা বিক্রি করেই জীবন চালাচ্ছেন। এখানে লাল চা, ভুনা চা, মশলা চা, হরলিক্স চা, গরুর দুধ, দধের স্বর বিক্রি করে থাকেন। একবেলা দোকান করেন রুবেল।


দুপুরের পর থেকে শুরু হয় কার্যক্রম। শহরের আরামবাগ অর্থাৎ স্বপ্নপুরী হোটেল সংলগ্ন স্থানে রুবেলের চায়ের দোকান। বিকেল থেকে সময় যত গড়ায় ততই দোকানে বাড়তে থাকে ভিড়। নানা রকম বয়সের মানুষ এ দোকানে চা খেতে ভিড় জমায়। দূরদূরান্ত থেকে দলবেঁধে এ দোকানে আসে চা থেতে। রকম ভেদে চায়ের দাম নেয়া হয়। এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা, ২০ টাকা ।

রুবেলের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আগে হরেকরকমের কাজ করতাম। কিন্তু প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে ভুনা চা বিক্রি করছি। ভালই সাড়া পেয়েছি। আসলে জিনিস ভালো হলে মানুষ এমনি দাম দিতে চায়। আমি চেষ্টা করি মুখরোচক যেন হয় সে চাটা। রুবেল আরও জানান, আমার দোকানে একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ কাজ করে। বয়স ২০ বছর হবে। দুজন মিলেই দোকানটা চালাই। প্রতিদিন প্রায় ১৫০০-২০০০ টাকা বেচাবিক্রি করি। যা করি তাতেই আমি সন্তুষ্ট। এ আয় থেকেই চলছে আমার জীবন সংসার।

সন্ধ্যার পরে রুবেলের দোকানে গেলে দেখা যায়, লম্বা ট্রের উপর প্রায় ৫০ টি কাপ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। একবারে ৫০ কাপ চা বানানো হবে। যে যেমন চা অর্ডার দিবে তাকে সে চা বানিয়ে দেয়া হবে। মাটির চুলার উপর বড় পাতিলে গরুর দুধ টকবগ করে ফুটছে, হরলিক্স এর মিনি প্যাকেট সারিসারি ভাবে সাজানো। শুধু কি চা, অনেককে দেখলাম গরুর একগ্লাস গরম দুধ, দুধের স্বরও বিক্রি করা হচ্ছে। চা ক্ষেতে আসা হাবিবুর, ফারুক, তারেকসহ আরও অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান, রুবেল এর ভুনা চা খুব ভালো লাগে তাই আমরা এখানে চা খেতে আসি। অনেক সময় তো লম্বা লাইন লেগে যায় চা খাবার জন্য।


রাস্তার পাশেই এ দোকানে রয়েছে বসার সুব্যবস্থা। রয়েছে বড় টেবিল ফ্যান, ফিল্টার ঠা-া পানি। উঠতি বয়সের যুবকরা তাই এখানে বসেই ঝড় তোলে চায়ের কাপে। দেশ. রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে চলতে থাকে তুমুল তর্ক-বিতর্ক। রুবেলের ইচ্ছে সামনে এ দোকানের পরিধি আরও বাড়ানোর। মুখের স্বাদের এ ভুনা চা ছড়িয়ে পড়–ক চাঁপাইনবাবগঞ্জে এটাই প্রত্যাশা রুবেলের।