চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন বোরো চাষ পদ্ধতিতে লাভবান হবেন কৃষক

-এ পদ্ধতি কৃষকদের একদিকে উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ী
অপর দিকে অধিক উৎপাদনে সর্বাধুনিক আবিষ্কার-

ডি এম কপোত নবী : চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেসরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম কয়েক বছর গবেষণা করে বের করেছেন নতুন বোরো চাষ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রায় ৮০ ভাগ বীজ কৃষকের সাশ্রয় হবে। অধিক চারা রোপণে এতদিন যে অপচয় হয়ে আসছিল তাও রোধ হবে। একটি বীজে একটি চারা। এই চারা রোপণ পদ্ধতিতে লাগানো ধানের জমি অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। একটি চারা থেকে সর্বনিম্ন ৩০ টি থেকে ৪৩ টি থোড় বের হবে। প্রচলিত চাষ পদ্ধতির অন্তত দেড়গুণ বেশি ফলন হবে, যা একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব হবে। সর্বোপরি এই পদ্ধতি সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুই বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ১৪ শতাংশ জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষ করে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেন তিনি। এরপর মমিন এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের ছাত্র জুবায়ের আলম রাজুকে নিয়ে দ্বিতীয় দফা ৮৫ একর জমিতে এই পদ্ধতিতে বোরো চাষ করে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি ফলন পেতে সক্ষম হয়েছেন। একটি মাত্র ধানের চারা রোপণ করে অধিক ফলনের এক অবিশ্বাস্য গবেষণায় তিনি সফল হয়েছেন। যদিও তিনি এই গবেষণাকে ফর্মুলা আবিষ্কার বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন। তবে সুইডিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার সায়েন্স থেকে এমএসসি ডিগ্রী অর্জনের পর থেকেই বীজ সাশ্রয় ও উচ্চ ফলনের লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গবেষণা করেছেন। এই পদ্ধতি কৃষকদের একদিকে উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ী, অপর দিকে অধিক উৎপাদনে সর্বাধুনিক আবিষ্কার। এই প্রযুক্তিটি গবেষণার ফল হলেও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে চাষীদের।


এ বিষয়ে গবেষক মমিনুল ইসলাম জনান, পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে ধান চাষ গবেষণার বিষয়টি ২০১৬ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও ইকোনমিক্স এ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কনফারেন্স শীর্ষক দুটি আন্তর্জাকিত কনফারেন্সে উত্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিটি বিভিন্ন শিরোনামে অস্ট্রেলিয়া এ্যান্ড নিউজিল্যান্ড জার্নাল অব সোশ্যাল বিজনেস ইনডায়োরেমেন্ট এ্যান্ড সাসটেইনবিলিটি ৪র্থ সংখ্যায় ৪৬ থেকে ৫৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় জার্নাল ইসলামিক ফাইন্যান্স এ্যান্ড বিজনেস ৩ নং সংখ্যায় ১ থেকে ৮ নং পৃষ্ঠায় গুরুত্বসহকার বের হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অর্গানিক ধান বীজ ধারণাটি গবেষকরা হোটেল রেডিসনের এক আলোচনায় তুলে ধরেন। সেখানে বর্তমান চাষ পদ্ধতির ত্রুটি থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোকপাত করেন আলোচকরা।

কৃষি গবেষক মমিনুল ইসলাম আরও জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ব্যবহার ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। একদিকে জনসংখ্যার চাপ, পাশাপাশি প্রতিবছর খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এটা রোধ করে কৃষিবান্ধব সার উৎপাদনের গবেষণা করেন তিনি। রাসায়নিক সার ব্যবহারে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে মাটির ভৌত গুণাবলী, দেখা দিচ্ছে ফলন বিপর্যয়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে বলে তিনি মনে করেন। কৃষকের জন্য এ নতুন পদ্ধতি যথেষ্ট বাহবা পাবার দাবি রাখে।