জীবন যুদ্ধে সফল এক নারীর নাম পারভিন

 


ডি এম কপোত নবী : মাটির চুলার উপর চায়ের কেটলি। পাশে বড় কেটলিতে গরুর দুধ টগবগ করে ফুটছে আগুনের তাপে। এই দুধ দিয়েই তৈরি হবে দুধচা। আর সেই চা খাওয়ার জন্যে এখানে এসে সকাল-দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা-রাতে ভীড় করে বিভিন্ন জায়গার ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এই দোকানে যার হাতের চা খেতে প্রত্যহ এত মানুষের ভীড়, তার নাম পারভিন আক্তার। বয়স ৪০ এর কাছাকাছি। তবে পারভিন একাই দোকান চালান না। স্বামী খুরশেদ আলম ও দু ছেলে পারভেজ ও আল-আমিনও বাবা মায়ের সাথে দোকানে সাহায্য করেন। বড় ছেলে পারভেজ একজন দক্ষ মেকানিক। টিভি, ফ্রিজ, এসি, রেডিও মেরামতের দোকান রয়েছে তার। মা বাবার শত কষ্টেও ২ ছেলেকে পড়াশুনা করিয়ে যাচ্ছেন। বড় ছেলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ছাত্র। সামনে ডিগ্রী পরিক্ষা তার। আর ছোট ছেলে এইচ এসসি পরীক্ষা দেবে।


বুধবার বিকেলে শহরের আলী নগর এলজিইডি মোড়ে চায়ের দোকানেই কথা হয় পারভিন এর সাথে। তিনি জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর যাবৎ এখানেই আমাদের চায়ের দোকান। পরিবার চালানোর একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে আমাদের এ চায়ের দোকান। আগে ছোট পরিসরে দোকান ছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় দোকান বড় করতে পেরেছি। দোকানের একদিকে রয়েছে রঙিন টেলিভিশন। পারভিন জানান, দোকান আমাদের না, আমরা ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছি। বর্তমানে সারাদিনে দেড় দু হাজার টাকা বেচাবিক্রি করি। লোকজন বেশি আসলে বেচাবিক্রিও বেশি হয়। শতকষ্টের পরও একটু একটু করে জমিয়ে আলী নগর ভূতপুকুরে মাটি কিনে নিজের বাড়ি বানিয়েছি।


তিনি আরও জানান, খুব সকালে এসে দোকান খুলে, ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে চুলায় আগুন দেন তিনি। এরপর চলে তার চা তৈরি আর বিক্রির কাজ।
নারী হয়েও এখানে কাজ করতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না বলেও জানালেন পারভিন। জীবন যুদ্ধে সফল পারভিন মনে করেন, কাজ করে বেঁচে থাকাটা অনেক সম্মানের। কাজেই বলতে হয় জীবন যুদ্ধে জয়ী এক নারীর নাম পারভিন।

 

SHARE