বর্ষায় শিশুর বাড়তি যত্ন নেবার পরামর্শ চিকিৎসকদের

<সুপ্রিয়া আক্তার>

প্রকৃতিতে এখন চলছে বর্ষাকাল, কখনো ভ্যাপসা গরম তো কখনো শ্রাবণের অঝর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। এই বর্ষাকাল নিয়ে কবি সাহিত্যিকগণ লিখেছেন অনেক কবিতা ও গান। বর্ষা নিয়ে অনন্যসব সাহিত্য রচনা করেছে তাঁরা।
একসময় এই বাংলাদেশ এতো উন্নত ছিল না, এতো উন্নয়নও হয় নি। বিশেষ করে গ্রামের মানুষকে বর্ষকালে কাদাপানির মধ্যেই বসবাস করতে হয়েছে। কিন্তু এখন আর সে সময় নেই, বদলে গেছে সব কিছু। মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। তবুও অসচেতনতার কারণে এখনও শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এই বর্ষায়।  বর্ষকালে আমাদের মাঝে পরিষ্কার পরিছন্নতার অভাব দেখা যায়। ফলে এসময়ে রোগজীবাণুর প্রাদুর্ভাব ঘটে। আর এই রোগজীবাণু বাসাবাঁধে আমাদের দেহে। বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগজীবাণু ছাড়াও মশার কামড়েও বিভিন্ন রোগজীবাণু আমাদের দেহকে আক্রান্ত করে থাকে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ও ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে তারাই একটু বেশি আক্রান্ত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের ওয়ার্ড অসুস্থ শিশুতে ভর্তি এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও অসুস্থ শিশুর সংখ্যা বেশি। বহির বিভাগেও শিশুদের নিয়ে চিকিৎসা করাতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকেই।
ডায়রিয়া বিভাগে ভর্তি হওয়া আরো একজন মা বলেন আজ চার দিন ধরে বাচ্চার ডায়রিয়া। তিনদিন থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ডাইরিয়া বিভাগে শিশুদের সংখ্যাটাই বেশি।  এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের ডাইরিয়া বিভাগের ইনর্চাজ পারভীন বেগম জানান এখানে প্রতিদিনই ২০-৩০ জন ডায়রিয়া রোগী নতুন করে ভর্তি হয়ে থাকে। একেক জন একেক এলাকা থেকে আসে। এটা কোন ফুড পয়জেনিং বা পানির ক্ষতির কারণে না। এখানে বেশিরভাগ রোগী অসচেতন। অসচেতনতার কারণে তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তারা এখনো পাইখানা থেকে বেরিয়ে এসে এবং খাবার খাওয়ার সময় সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ঠিকমত পরিষ্কার করে না। খাবার ঢেকে রাখে না, বাসি পচা ও বাহিরের ধুলাবালি যুক্ত খাবার খেয়ে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এছাড়া ছোট বাচ্চারা ডায়রিয়ার শিকার হচ্ছে তাদের মায়েদের অসচেতনতার কারণে। মায়েরা বাচ্চাদের পাইখানা,পরিষ্কারের পর সেই হাতেই বুকের দুধ ধরে বাচ্চকে দুধ খাওয়ান এই কারনেই বাচ্চাদের ডায়রিয়া হয়ে থাকে। মায়েরা যদি তাদের বাচ্চাকে প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেয় তাহলে শিশুর ডায়রিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এই বর্ষাতে শিশুদের কোন ধরণের যত্ন নিতে হবে সে বিষয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ ইসলাম মুন বলেন-এখন যেহেতু বর্ষাকাল তাই রোগ জীবাণু বেশি দেখা দেয়। বৃদ্ধ ও শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশুদের এসময় সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ডেঙ্গু হতে পারে দেখা যায়। একারণে বাড়ির আশেপাশের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। বৃষ্টিতে ভেজা যাবে না, বৃষ্টির ময়লা পানি পান করা যাবেনা, শরিরের জামা-কাপড় ভিজে গেলে তা পাল্টিয়ে ফেলতে হবে এবং বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে গোসল করে নিতে হবে। এছাড়া প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। তিনি আরো জানান, একজন সচেতন মা-ই পারে শিশুর সঠিক যত্ন নিতে। আর যত্ন নিলেই শিশুদের অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব।

রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফ এম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

SHARE