সমর্থনের বিনিময়ে বুলবুলের সোনা চান নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা

অদ্বিতীয় বাংলা
On জুলাই ২৫, ২০১৮

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিল্ক সিটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনসমর্থন আদায়ে জোড় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ধারণা করা হচ্ছে এবার ভোটের হিসেবে মেয়র হিসেবে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় মহাজোট থেকে মনোনীত খায়রুজ্জামান লিটন এবং বিএনপি থেকে মনোনীত মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এই দুই মেয়র প্রার্থীই ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে বিভিন্ন ধরণের নির্বাচনী কৌশল অবলম্বন করেছেন।

এখন পর্যন্ত রাসিক নির্বাচনী প্রচারণার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসমর্থনের দিক দিয়ে বুলবুলের তুলনায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন সরকার দলীয় প্রার্থী লিটন। বিশেষ করে লিটনপত্নী শাহীন আক্তার রেনি ও লিটনকন্যা অর্ণা জামানের বিরামহীন প্রচার প্রচারণার বদৌলতে নারী ভোটারদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন লিটন। এদিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন বুলবুল।

এবার নগরীর নারী ভোটারদের সমর্থন নিজের দিকে নিতে নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের দ্বারস্থ হয়েছেন বুলবুল। নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালায় এবং নিজেরা নারী কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার সুবাধে নগরীর অধিকাংশ নারীদের সাথে তাদের চেনাজানা থাকে এবং সহজেই নারীদের কাছে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে তাদের। নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ে এই কারণেই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী প্রচার চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বুলবুল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুলবুলের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মাধ্যমে জানা যায় সম্প্রতি নগরীর ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের অধিকাংশ নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বুলবুল। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নিজেদের প্রচারণার পাশাপাশি বুলবুলের প্রচারণা চালানোর জন্য রাজি হলেও বিনিময়ে তারা বুলবুলের সোনার ভাগ চেয়েছেন। প্রসঙ্গত বুলবুলের নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী তার স্ত্রীর সোনা ২০ ভরি হলেও বুলবুলের সোনা ২৫ ভরি। নির্বাচনে সমর্থনের বিনিময়ে বুলবুলের ওই ২৫ ভরি সোনার ভাগ চেয়েছেন নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এসময় বুলবুল তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রচারণা চালাতে রাজি হওয়া নারী কাউন্সিলরদের পরে আবার ডাকবেন বলে বৈঠক শেষ করে দেন।

বুলবুলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুলবুল ছোটবেলা থেকেই সোনাপ্রেমী। এজন্যই তার ব্যক্তিগত সোনার সংগ্রহ ২৫ ভরিরও বেশি। সোনার প্রতি তার অধিক দুর্বলতার কারণেই নিজের সোনার ভাগ দিতে রাজি হচ্ছেননা বুলবুল।